শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসহকারী কানাই চন্দ্র পাল কর্তৃক করোনা ভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করার পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে এক নারী। গত ৯ আগষ্ট থেকে টিকা গ্রহণ করার পর থেকেই তিনি গুরুতর অসুস্থ বলে জানা যায়। ঐ দ্বিতীয় ডোজের টিকা তার শরীরে প্রবেশ করামাত্র শরীরের ভেতর মোচর দিয়ে খিচুনি ওঠে মরণাপন্ন অবস্থা হয়ে যায় এবং শরীরে বড় বড় এলার্জি জাতীয় চাকা চাকা লক্ষ্য করা যায়। অসুস্থ ঐ নারীর নাম উম্মে সুরাইয়া পুতুল। স্বামীর নাম ফজলুল হক মারুফ ছৈয়াল। তিনি তার স্বামীর বাড়ি ভেদরগঞ্জ উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পুটিঝুড়ি গ্রামে বসবাস করেন। উম্মে সুরাইয়া পুতুলের সাথে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, আমি গত ০৯ আগষ্ট করোনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাই। কিন্তু দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার পর থেকেই আমার শরীর খারাপ হতে থাকে এবং শরীরে খিচুনি ওঠে আমি বেহুশ হয়ে যাই। এছাড়া আমার শরীরে বড় বড় এলার্জি জাতীয় ফুলা চাকা চাকা লক্ষ্য করা যায়। জানা যায়, উম্মে সুরাইয়া পুতুল ১ম ডোজের ভ্যাকসিন সিনোফার্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যখন দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ করতে যান, তখন স্বাস্থ্য সহকারী কানাই চন্দ্র পাল টিকা কার্ড না দেখে অন্য গ্রুপের ভ্যাকসিন ‘কভিশীল’ টিকা ডোজ দিয়ে দেন। এরপর পুতুলের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। পরের দিন যখন অসুস্থ অবস্থায় পুতুল ভেদরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়, তখন তার এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে টিকা কার্ডে উভয় ডোজ সিনোফার্ম লিখে দেন স্বাস্থ্য সহকারী কানাই চন্দ্র পাল।

এ বিষয়ে কানাই চন্দ্র পালকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, আমার নিকট হাজার লোক টিকা নিচ্ছে। কেউ কোন অভিযোগ করেনি। এমনকি ভিকটিম আমাদের নিকট অভিযোগ করেনি। যদি অভিযোগ আসে তখন দেখা যাবে।

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. কামরুল হাসান অনিককে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, আমাদের নিকট উম্মে সুরাইয়া পুতুল নামে এক নারী এসেছিল। তার ভ্যাকসিন দেওয়ার কারনে রাতে জ্বর হয়ে শরীরে সমস্যা দেখা দেয়। আমরা ভ্যাকসিনের সমস্যার কারনে যে চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন, সে চিকিৎসা আমরা ঐ নারীকে দিয়েছি। তাকে সিনোফার্ম ভ্যাকসিনের বদলে কোভিশীল ভ্যাকসিন দিয়েছে কি-না সে বিষয়ে অভিযোগ পাইনি। তবে টিকা দেয়ায় ঐ নারীর সমস্যা হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রিপোর্ট পাঠিয়েছি।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আল বিধান মোহাম্মদ সানাউল্লাহকে এ বিষয়ে দৈনিক রুদ্রবার্তাকে বলেন, দেশে লক্ষ লক্ষ করোনা ভ্যাকসিন নিচ্ছে, হাজারে দু-একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে। ১ম ডোজ সিনোফার্মের বদলে দ্বিতীয় ডোজ কোভিশীল ভ্যাকসিন টিকা দিলে যে সমস্যা হবে, এমন কোন কথা নয়। যদি টিকা দেয়ায় সমস্যা হয়, ভালো চিকিৎসা নিলে রোগ সেরে যাবে।

Facebook Comments Box