মা ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তার চাল বিতরণ ঘিরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ৮০ কেজির পরিবর্তে প্রতি জেলেকে ৬ থেকে ১০ কেজি কম চাল দেওয়ার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) উপজেলার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান, ট্যাগ অফিসার, সচিব ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
নিষেধাজ্ঞা ও সহায়তা কর্মসূচি
জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের পাঁচটি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে।
এ সময় নিবন্ধিত জেলেদের জীবনযাত্রা নির্বাহে সরকার মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেককে ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। ভেদরগঞ্জে ১,০৫০ জন জেলের জন্য এ চাল বরাদ্দ করা হয়।
কিন্তু অভিযোগ, চাল বিতরণের দিন নির্ধারিত সময়ের আগেই বিতরণ শুরু করা হয় এবং ওজনে কম দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী জেলে রকিব মাঝী বলেন, “আমাকে ৮০ কেজি চাল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দিয়েছে ৭০ কেজি। জিজ্ঞেস করলে বলে চাল কম এসেছে। আমরা গরিব মানুষ, বেশি কিছু বলার সাহস নেই।”
আরেক উপকারভোগী ফয়সাল হোসেন জানান, “চাল মেপে দেখি ৭২ কেজি। চেয়ারম্যান বললেন উপজেলা থেকে কম এসেছে। কিন্তু সাংবাদিকরা আসার পর দেখি ৮০ কেজি করে দিচ্ছে।”
একাধিক জেলে অভিযোগ করেন, তারা দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ রেখে কষ্টে আছেন। এর মধ্যেও বরাদ্দের চাল কম পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন তারা। কেউ কেউ বলেন, প্রতিবাদ করলে এলাকায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
অনিয়মের খবর পেয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক ঘটনাস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে.এম রাফসান রাব্বি ও সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল ইমরানকে পাঠান। তারা গিয়ে চাল বিতরণে অনিয়মের সত্যতা পান এবং উপস্থিত থেকে বাকি জেলেদের মধ্যে সঠিক পরিমাণ চাল বিতরণ নিশ্চিত করেন।
অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান সেকান্দার খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি সঠিক মাপেই চাল দিচ্ছি।” ওজনে কম দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার জাহিদুর রহমান সরকার বলেন, “দুই-তিন কেজি কম হতে পারে, বস্তায় কিছু চাল কম থাকে।” তবে বিষয়টি চেয়ারম্যান ও সচিবের সঙ্গে কথা বলতে বলেন তিনি।
ইউএনও হাফিজুল হক জানান, অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় মোট ১৫ হাজার ৮১৮ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। তাদের অনেকেই সরকারের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
স্থানীয়দের মতে, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তায় অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, এটি অসহায় মানুষের সঙ্গে অন্যায়। এখন তদন্তের ফলাফল ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা দেখার অপেক্ষায় ভেদরগঞ্জবাসী।




মন্তব্য করুন