শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নে গণলুটপাট, অগ্নিকাণ্ড ও নারী নির্যাতনসহ ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকাল ৫টায় চরমাইজারি বাজার এলাকায় এ মানববন্ধনে অংশ নেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, গত ২১ মে দুপুরে কাশেম মুতাইত নামে এক ব্যক্তিকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যার পর একইদিন বিকেলে চরমাইজারি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সন্ত্রাসীদের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।
গ্রামবাসীর দাবি, এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন বাদল গাজী ও তার সহযোগীরা। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় প্রতিহিংসাবশত হত্যাকাণ্ডসহ পরবর্তী সহিংসতা সংঘটিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনাস্থলে স্থানীয় থানা পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। গোসাইরহাট থানার তৎকালীন ওসি মাকসুদ আলম নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন এবং ভুক্তভোগীদের মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান।
এছাড়া তারা অভিযোগ করেন, উল্টো নিরীহ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আসামি করা হয়েছে মৃত ও অতি বৃদ্ধ কয়েকজন গ্রামবাসীকেও। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই মামলার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও জানান, বাদল গাজীর নেতৃত্বে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ আদায় করা হয়েছে। এমনকি ভুক্তভোগীরা বাদল গাজীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ ওঠে।
গ্রামবাসী এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। একইসঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নারী নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তার ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান তারা।

মন্তব্য করুন