তেজগাঁওয়ে প্রদর্শনী প্রমাণ করল—সঠিক নীতি, প্রযুক্তি ও যুবশক্তি কাজে লাগালে বাংলাদেশ হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার শিল্প কেন্দ্র।
বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে। কৃষি খাতের আধুনিকীকরণ এবং অটোমোবাইল শিল্পের সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। সম্প্রতি ঢাকায় তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী অটোমোবাইল ও কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদর্শনী এ সম্ভাবনার প্রতিফলন।
প্রদর্শনীতে অংশ নেয়া ২৬টি অটোমোবাইল ও কৃষি যন্ত্রপাতি প্রতিষ্ঠান এবং ১২টি সহায়ক প্রতিষ্ঠান দেশের শিল্প খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেছে। দুই দিনব্যাপী সেমিনারগুলোতে আলোচিত হয়েছে—দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানি নির্ভরতা কমানো, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের ভূমিকা।
বাংলাদেশের কৃষি যন্ত্রপাতি খাত দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং মান নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। অটোমোবাইল শিল্পেও নগরায়ণ ও চাহিদা বাড়লেও পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ সীমিত।
তবুও সম্ভাবনা বিপুল। বাংলাদেশের যুবসমাজ উদ্ভাবনী, শ্রমশক্তি তুলনামূলকভাবে কম খরচে, এবং ভৌগোলিক অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে সুবিধা এনে দিতে পারে। সঠিক নীতি, গবেষণা ও উন্নয়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং রপ্তানি লক্ষ্য নির্ধারণে এই খাতগুলোকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। স্থিতিশীল নীতি, প্রণোদনা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অবকাঠামোগত সহায়তা শিল্পকে টেকসই করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা কেন্দ্র ও উদ্যোক্তাদের সমন্বয় শিল্পে নতুন উদ্ভাবন আনতে সক্ষম।
সংক্ষেপে, অটোমোবাইল ও কৃষি যন্ত্রপাতি খাত শুধু উৎপাদনশীলতা বাড়াবে না, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, বরং দেশে আত্মনির্ভরশীল শিল্প সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন সময় এসেছে—নীতিগত স্থিতিশীলতা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাজার সংযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার। লেখক: শহীদুল ইসলাম পাইলট, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলাম লেখক।




মন্তব্য করুন