জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) “বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পোস্ট-জুলাই যুগে জাতীয় স্বার্থ ও বৈশ্বিক সম্পর্কের পুনঃসংজ্ঞায়ন” শীর্ষক জাতীয় নীতি প্রতিযোগিতা-২০২৫ এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে এই জাতীয় নীতি প্রতিযোগিতার শুরু হয় এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৪টা নাগাদ অনুষ্ঠান শেষ হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের অতিরিক্ত পরিচালক আমিনা ইসলাম।

জাতীয় নীতি প্রতিযোগিতা-২০২৫ এর চূড়ান্ত পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে খুরশিদা খান তৃষা, সুমাইয়া জাহান সামান্তা ও শমরিতা বড়ুয়ার দল।

এছাড়া প্রথম রানার আপ হয়েছে হুমায়রা তাসনিম শাম্মী, শরীফ মেহেরব হোসেন জিদান ও তাসনিম কাদেরের দল। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছে সামিহা আক্তার সালমা, সুমাইয়া আক্তার ও মির্জা সাকির দল।

দিনব্যাপী এ আয়োজনে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে স্বাগত বক্তব্যের পর ফাইনাল রাউন্ডের দলগুলো প্রায় ১৫ মিনিট করে নীতি-প্রস্তাব উপস্থাপন করে।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, “জুলাই এর অভ্যূত্থান মানুষের মনে চিরতরে দাগ কেটে গেছে। নেতা ও রাজনৈতিক দল ছাড়াই সংগঠিত হওয়া এই অভ্যূত্থান অবিস্মরণীয়। ১৫ বছরের বঞ্ছনা থেকে মুক্তি পেতে সর্বস্তরের মানুষ এই অভূত্থানে অংশ নিয়েছে।”

তিনি বলেন, “এই অভূত্থানে কোনো ম্যানিফেস্টো ছিলো না। তবে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন, ভারতের আগ্রাসী ভূমিকা ও আধিপত্যবাদ বন্ধ এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এই অভ্যূত্থান হয়েছে। ড. দিলারা বলেন, যুব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে এবং তাদের চিন্তা-ভাবনা দেশ গঠনের কাজে লাগাতে হবে। এজন্য নতুন প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই প্রতিযোগিতায়ও আমাদের যুব সমাজ যে ভারসাম্যমূলক বৈদেশিক নীতি চায় তা ফুটে উঠেছে। তিনি, যুব সমাজকে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এ দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান এবং প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করার জন্য নতুন প্রজন্মকে তৈরি হওয়ার পরামর্শ দেন।”

পরে প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “দেশে পলিসির সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নীতি নেই। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে পারস্পরিক লাভবান হওয়ার নীত থাকতে হবে। এখানে উভয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। উপাচার্য বলেন, কেউ পরিবর্তন করে দেবে না, আমাদের নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে।”

উপাচার্য বলেন, “ফ্যাসিস্টকে বিতাড়ন করতে সবাই একীভূত হয়েছিলো। কিন্তু অভ্যূত্থানের একবছর না যেতেই সকল প্রকার অজুহাত দিয়ে বিভাজন তৈরী করা হচ্ছে, যা মানুষকে আশাহত করছে। এই অবস্থান নিজেদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “পড়াশোনা শিখে কোন লাভ নাই যদি নৈতিক মানুষ না হওয়া যায়। আজকের এই অনুষ্ঠান থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এসেছে। এখান থেকে অন্তত একটি বক্তব্যের আলোকে যদি নিজের জীবন গড়া যায়, তাতেই জীবনে সফলতা আসবে বলে মনে করি।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—অধ্যাপক ড. এম. মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক), অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন),
,অধ্যাপক ড. এম. আব্দুর রব, কোষাধ্যক্ষ, জনাব মো. মাহবুব-উল-আলম, সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

জাতীয় স্বার্থ ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক নীতি-চিন্তা উৎসাহিত করতেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

Facebook Comments Box