বাংলাদেশ বহুজাতি, বহু ধর্ম এবং বহু সংস্কৃতির সমন্বয়ে গঠিত এক অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এখানে সকল ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়, বরং জাতির সামগ্রিক সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের নেতৃত্বে এ বছরও দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার ১০১টি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি, ভিজিলেন্স টিম ও মনিটরিং সেলের কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ইতোমধ্যেই ষষ্ঠী পূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়া তারই প্রমাণ।
আমাদের দেশে ধর্মীয় উৎসবগুলোতে নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাঝে মাঝে সাম্প্রদায়িক উসকানি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার নজির রয়েছে। তাই প্রশাসনের সতর্ক তৎপরতা সবার মধ্যেই স্বস্তি ফিরিয়ে আনে। জেলা প্রশাসক যেভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, নিয়মিত পরিদর্শন চালাচ্ছেন এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করছেন—এটি সত্যিই ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
একই সঙ্গে পূজামণ্ডপগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করাও সামাজিক সংহতির প্রতিফলন। এতে বোঝা যায়, শুধু নিরাপত্তাই নয়, বরং সার্বিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই প্রশাসন পূজা উদযাপনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
আমরা মনে করি, ধর্ম যার যার—কিন্তু উৎসব সবার। এই চেতনা সমুন্নত রাখতেই এমন প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি। তাহসিনা বেগমের নেতৃত্বে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন যেভাবে দুর্গাপূজায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে, তা দেশের অন্যান্য জেলাতেও অনুসরণযোগ্য হতে পারে।
সবশেষে আমাদের প্রত্যাশা, এ বছরের দুর্গাপূজা হোক সম্প্রীতির, নিরাপত্তার এবং আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। লেখক: শহীদুল ইসলাম পাইলট, সম্পাদক ও কলাম লেখক।




মন্তব্য করুন