জাতীয় কন্যা শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য— “আমি কন্যা শিশু, স্বপ্ন গড়ি, সাহসে লড়ি, দেশের কল্যাণে কাজ করি” কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং একটি সময়োপযোগী বার্তা। এই বার্তা বাস্তবায়নের প্রতিচ্ছবি আমরা দেখতে পাই শরীয়তপুর জেলায়, যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এক অসাধারণ নারী প্রশাসক তাহসিনা বেগম।
তার নেতৃত্বে শরীয়তপুর আজ প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক সচেতনতা এবং মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য সমন্বয়ে পরিণত হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ছিল একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। সেখানে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের সভাপতিত্বে যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, তা শুধু দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং নারীর ক্ষমতায়ন, কন্যাশিশুর অধিকার, এবং সমাজে নারী নেতৃত্বের স্বীকৃতি নিয়ে এক গভীর বার্তা দেয়।
একজন নারী প্রশাসক হিসেবে তাহসিনা বেগম শুধু দায়িত্ব পালন করছেন না, তিনি বদলে দিচ্ছেন দৃষ্টিভঙ্গি, তৈরি করছেন প্রেরণার নতুন মানচিত্র।
প্রশাসনে মানবিকতার প্রতিচ্ছবি: জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের নেতৃত্বে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন আজ জনবান্ধব প্রশাসনে রূপান্তরিত হয়েছে। তিনি জনসেবাকে শুধু প্রশাসনিক কাজ হিসেবে দেখেন না, দেখেন দায়িত্ব ও মানবিকতার দৃষ্টিতে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনতে তিনি যেমন সরাসরি উপস্থিত হন, তেমনি দুর্যোগ-দুর্বিপাকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে কখনও পিছপা হন না।
নদীভাঙন, বন্যা, কিংবা দুর্ঘটনা সব ক্ষেত্রেই তাহসিনা বেগমের উপস্থিতি যেন শরীয়তপুরের মানুষের ভরসার নাম।
তাঁর কাজের একটি বড় দিক হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। তিনি মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সবসময় মনে করিয়ে দেন প্রশাসন জনগণের জন্য, জনগণ প্রশাসনের জন্য নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গিই শরীয়তপুরের প্রশাসনে এনেছে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।
নারী ও কন্যাশিশু উন্নয়নে অনন্য ভূমিকা: নারী ও কন্যাশিশুর উন্নয়নে তাহসিনা বেগমের ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। শরীয়তপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মেয়েদের শিক্ষায় উৎসাহ দিতে তিনি গড়ে তুলেছেন নানা উদ্যোগ।
“স্কুলে ফেরা মেয়ে” প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত কন্যাশিশু পুনরায় শিক্ষার আলোয় ফিরেছে। পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গড়ে তুলেছেন কার্যকর প্রশাসনিক ও সামাজিক নেটওয়ার্ক। তাঁর নেতৃত্বে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, মহিলা সমবায় সমিতি শক্তিশালী করা, এবং নারীদের আর্থিক আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর কাজ চলছে অবিরামভাবে।
জাতীয় কন্যা শিশু দিবসের আলোচনায় তিনি যে বক্তব্য দেন—“কন্যাশিশু সমাজের বোঝা নয়, বরং প্রতিটি পরিবারের আশীর্বাদ” তা কেবল একটি উক্তি নয়, বরং তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজে নারীর সমান অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
নারী নেতৃত্বের অনুপ্রেরণা: বাংলাদেশের ইতিহাসে নারী নেতৃত্ব নতুন নয়, কিন্তু প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে একজন নারী জেলা প্রশাসকের সফলতা অনেক সময়েই সংগ্রামের ফসল। তাহসিনা বেগম সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন দৃঢ়তার সঙ্গে।
তিনি প্রমাণ করেছেন দক্ষতা, সততা ও দূরদর্শিতা থাকলে নারীও প্রশাসনিক নেতৃত্বে পুরুষদের মতোই সফল হতে পারেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, সময়ানুবর্তিতা, এবং সাহসী সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতা তরুণ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
শরীয়তপুরের মতো নদীবেষ্টিত, উন্নয়ন-নির্ভর একটি জেলাকে পরিচালনা করা সহজ কাজ নয়। সেখানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, এবং সামাজিক সমন্বয় রক্ষা সবই তিনি করছেন দক্ষতার সঙ্গে।
বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের যে কঠোর অবস্থান দেখা যায়, তার মূল চালিকাশক্তি তাহসিনা বেগম।
প্রশাসনে সততা ও সেবার সংস্কৃতি: আজকের প্রশাসনে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো সততা ও জনসেবার মানসিকতা। তাহসিনা বেগম সেই সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তিনি শরীয়তপুরে এমন একটি প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে তুলেছেন, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জনগণের পাশে থাকতে গর্ববোধ করেন।
তার নেতৃত্বে জেলা প্রশাসন শুধু ফাইলের কাজেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
নারী নেতৃত্বে বদলে যাওয়া শরীয়তপুর: আজ শরীয়তপুরে শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, উন্নয়নের মনোভাবও বদলে গেছে। জনগণের আস্থা বেড়েছে প্রশাসনের প্রতি। কন্যাশিশুরা আজ স্বপ্ন দেখতে শিখেছে, সাহস করে কথা বলতে শিখেছে।
তাহসিনা বেগমের নেতৃত্বে শরীয়তপুর এক অর্থে নারী নেতৃত্বের শক্তিতে আলোকিত হয়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, নারীর নেতৃত্ব মানেই শুধু ক্ষমতা নয়, বরং দায়িত্ব, সেবা ও মানবিকতার এক অনন্য রূপ।
আমরা বিশ্বাস করি, তাহসিনা বেগমের মতো যোগ্য, সৎ ও মানবিক প্রশাসকই পারে বাংলাদেশের প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করে তুলতে। তাঁর কর্মপ্রেরণা শরীয়তপুরের সীমা ছাড়িয়ে সারাদেশের প্রশাসনিক ও সামাজিক উন্নয়নে একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে।
সর্বশেষে বলা যায়, জাতীয় কন্যা শিশু দিবসের মূল বার্তা, “স্বপ্ন গড়ি, সাহসে লড়ি, দেশের কল্যাণে কাজ করি” তাহসিনা বেগম নিজ জীবনের কাজের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে শরীয়তপুর আজ নারী ক্ষমতায়ন, মানবিক প্রশাসন ও উন্নয়নের এক অনন্য উদাহরণ।
তিনি শুধু একজন জেলা প্রশাসক নন, বরং নারী নেতৃত্বের আলোকবর্তিকা, যার হাত ধরে শরীয়তপুর এগিয়ে যাচ্ছে এক নতুন সম্ভাবনার পথে। লেখক : শহীদুল ইসলাম পাইলট।




মন্তব্য করুন