থাইরয়েড গ্রন্থির ভারসাম্যহীনতা শরীরে সৃষ্টি করতে পারে নানা জটিলতা—ক্লান্তি, ওজন পরিবর্তন, তাপমাত্রা সংবেদনশীলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, আবার ভুল খাবার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

মানবদেহের গলার সামনের অংশে অবস্থিত প্রজাপতি-আকৃতির থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত টি-থ্রি ও টি-ফোর হরমোন শরীরের বিপাক, কোষ মেরামত এবং শক্তি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে হয় হাইপারথাইরয়েডিজম, আর কমে গেলে হয় হাইপোথাইরয়েডিজম—উভয় অবস্থায়ই দেখা দেয় শারীরিক ও মানসিক অসুবিধা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের কিছু খাবার থাইরয়েডের ভারসাম্য আরও বিঘ্নিত করতে পারে:

– সয়াবিন ও সয়াজাত পণ্য:
সয়াবিনে থাকা ফাইটোইস্ট্রোজেন ও গয়ট্রোজেন হরমোন নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ২০১৫ সালের ‘জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম’-এর গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত সয়াবিন গ্রহণ আয়োডিনের ঘাটতি তৈরি করে, যা থাইরয়েড কার্যকারিতায় বিঘ্ন ঘটায়।

– গ্লুটেন:
‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালের গবেষণা অনুযায়ী, গ্লুটেন অন্ত্রের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা হরমোন নিঃসরণে হেরফের ঘটাতে পারে। তাই ময়দা ও গ্লুটেনসমৃদ্ধ খাবার এড়ানো উচিত।

– প্রক্রিয়াজাত খাবার:
অতিরিক্ত লবণযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার হাইপোথাইরয়েডিজমে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে কার্ডিয়োভাস্কুলার অসুখের সম্ভাবনা থাকে।

– উচ্চ ফ্যাটযুক্ত খাবার:
অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট পরিমিতভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে সতর্কতা জরুরি।

– কৃত্রিম শর্করা ও চিনি:
‘এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম ক্লিনিকস অফ নর্থ আমেরিকা’-র ২০১৮ সালের গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত চিনি বিপাকহারে প্রভাব ফেলে, যা থাইরয়েড রোগীদের জন্য ক্ষতিকর।

– স্ট্রবেরি, চিনাবাদাম ও মিলেট জাতীয় খাবার:
কিছু ফল ও বাদাম থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এসব খাবার গ্রহণে সতর্কতা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, থাইরয়েড রোগীদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য তালিকা তৈরি করা এবং নিয়মিত হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা।

Facebook Comments Box