শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের মধ্যেই মাথাব্যথার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। সাধারণ অস্বস্তি মনে হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার সংকেত হতে পারে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সীর মধ্যেই এই মৌসুমে মাথাব্যথা দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করছে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক চিকিৎসার জন্য ব্যথার ধরন ও কারণ শনাক্ত করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা শীতকালীন মাথাব্যথাকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন:

টেনশন বা চাপজনিত ব্যথা: এটি সবচেয়ে সাধারণ। সাধারণত কপাল বা ঘাড়ের পেছনের অংশে প্রচণ্ড চাপ অনুভূত হয়। মানসিক চাপ, অপর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন টাইমের কারণে এই সমস্যা বাড়ে। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পানি পানের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

মাইগ্রেন: জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ এই তীব্র ব্যথায় ভোগেন। মাইগ্রেনে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে বমি ভাব এবং আলো বা শব্দের প্রতি অতি-সংবেদনশীলতা দেখা দেয়। হরমোনের পরিবর্তন ছাড়াও আবহাওয়া বদল, চকলেট বা ক্যাফেইন এই ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।

সাইনাস ও ক্লাস্টার হেডেক: শীতকালে সাইনাস প্রদাহের কারণে কপাল ও গালের চারপাশে ভার অনুভূত হয়। এর সঙ্গে নাক বন্ধ থাকা বা হালকা জ্বর থাকতে পারে। অন্যদিকে, ক্লাস্টার হেডেক অত্যন্ত তীব্র হয়, যা সাধারণত চোখের একপাশে অনুভূত হয় এবং রাতের ঘুম ভেঙে দেয়।

ক্যাফেইন ও জীবনযাত্রা: শীতকালে চা-কফি পানের অভ্যাস বেড়ে যায়। হঠাৎ ক্যাফেইন গ্রহণ কমানো বা অতিরিক্ত সেবন—উভয়ই মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথাব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক তীব্র হয়, তবে ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ অবহেলিত মাথাব্যথা অনেক সময় বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকির পূর্বলক্ষণ হতে পারে।

Facebook Comments Box