ইসলামি আলোচক মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা অন্যায় দেখতে চাই না। একদল আরেক দলকে নিশ্চিহ্ন করার রাজনীতি আমাদের চাই না। আমরা চাই সুশাসন ও মানবিকতার বাংলাদেশ।”
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক প্যারেড ময়দানে (শহীদ রজব আলী ময়দান) ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রামের আয়োজিত পাঁচদিন ব্যাপী তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের পঞ্চম দিনে প্রধান মুফাসসির হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।
আজহারী তার বক্তব্যে বিডিআর সদস্যদের দীর্ঘদিন আটক রাখার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, “বিডিআর সদস্যদের অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছিল। একজন সদস্য তার ৬ মাসের মেয়েকে রেখে জেলে গিয়েছিলেন। জেল থেকে বের হয়ে দেখেন, তার মেয়ের বয়স এখন ১৭ বছর। তিনি তার মেয়ের শৈশব, কৈশোর বা তারুণ্য দেখতে পাননি। এখন তার মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত হয়ে গেছে।”
তিনি আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু প্রসঙ্গেও কথা বলেন। আজহারী বলেন, “আল্লামা সাঈদীকে বিনা অপরাধে জেলে রাখা হয়েছিল। তার মৃত্যু নিয়ে এখনো প্রশ্ন আছে। এটি কি স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল, নাকি মেডিক্যাল কিলিং? এই প্রশ্নের উত্তর তদন্ত করে জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে।”
আজহারী কুরআনের আলোকে ন্যায়বিচার ও আত্মীয়তার বন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আল্লাহ ন্যায়বিচার, সম্মানবোধ ও আত্মীয়দের সহযোগিতার আদেশ দিয়েছেন। অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমালঙ্ঘন থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। এই আদেশ-নিষেধ মেনে চললেই আমরা একটি সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে পারব।”
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, “আমরা কুরআনের ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ। মতপার্থক্য থাকলেও আমাদের ঐক্য ধরে রাখতে হবে। ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারলে দেশ থেকে দুর্নীতি, গুম ও খুন দূর করা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছি।”
ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রামের জনগণ সরকারের পাশে আছে। আমরা কওমি ও সরকারি নিছাবের আলেমদের ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান জানাই।” তিনি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন কাঠামো নির্ধারণের দাবি জানান।
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র মাওলানা শামীম সাঈদী বলেন, “আমার বাবাকে ১৩ বছর জেলে রাখা হয়েছিল। তার মৃত্যু পরিকল্পিত ছিল। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। কুরআনের রাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা প্রস্তুত।”
মাহফিলে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন পাঞ্জেরি ও চট্টলা শিল্পীগোষ্ঠী। শহীদ আল্লামা সাঈদীর স্মরণে কবিতা পাঠ করেন কবি সুলতান আহমদ।
মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ তাহের, সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলামসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।




মন্তব্য করুন