নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
সোমবার রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান। সভায় রাজশাহীর প্রশাসনিক ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন নির্বাচন কমিশনার।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, “দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাররা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অপেক্ষায় আছেন। সংস্কার কার্যক্রম যদি সংক্ষিপ্ত আকারে শেষ হয়, তাহলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে সংস্কার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে নির্বাচন ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে হতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া এবং নতুন ভোটার তালিকায় যুক্ত করার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১৮ লাখ মৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা ২৪ লাখে পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, “কোনো বৈধ নাগরিক যেন ভোটার তালিকার বাইরে না থাকেন, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, তবে ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি পরিবর্তন হতে পারে।”
ভোটার তালিকায় ছবি সংযোজনের বিষয়ে তিনি বলেন, “ছবি ছাড়া কোনো ভোটার তালিকা তৈরি হবে না। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “গত নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তুতি এবং ঘোষণা আগামী নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।




মন্তব্য করুন