সংসারে অসচ্ছলতার মাঝেও স্বপ্ন দেখতেন মাসুমা । সন্তানকে পড়াশোনা শিখিয়ে মানুষ করবেন। বাড়ি করবেন। তাই স্বামীর একার আয়ের পাশাপাশি সংসারের বাড়তি উপার্জনের জন্য মাসুমা উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়ার কাজ করতেন । ২১ জুলাই ঘটনার দিন সকালে বাসা থেকে শেষ বারের মতো স্কুলে যান। তিনি কর্মরত অবস্থায় ওই দিন দুপুর ১ টা ১০ থেকে ১২ মিনিটের মধ্যে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়। ইচ্ছে করলেই তিনি দৌড়ে নিজে একাই বাঁচার চেষ্টা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে ছোট ছোট শিশু শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই অগ্নি দগ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার ২৬ জুলাই সকালে ঢাকা মেডিকেলের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয় বলে জানান , তার স্বামী
মো. সেলিম।রাতেই মাসুমার নিথর দেহ পৌঁছায় তার গ্ৰামের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। মাসুমার মরদেহ তার বাড়িতে পৌছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারীতে শোকাবহ আহবর সৃস্টি হয়। এরপর থেকে স্বজন, প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীরা ভিড় করেন তাকে শেষবার এক নজর দেখতে। বাতাস ভারী হয়ে ওঠে তাদের কান্নার রোল আর আহাজারিতে। আজ রবিবার সকালে শোকাবহ আহবর সৃস্টি হয়।শুধু আয়া নন, মাসুমা ছিলেন সাহস আর মমতার প্রতীক। নিজেকে বিলিয়ে দিয়েও বাঁচিয়ে গেলেন অসংখ্য মায়ের স্বপ্ন। কিন্তু তার স্বপ্ন কি পুরণ হবে। এখন কে স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসবে। এমন প্রশ্ন আর চিন্তা অসচ্ছল পরিবারের সদস্যদের চোখ মুখে।

রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় স্থানীয় নয়া বাড়িয়া বায়তুন নুর জামে মসজিদের সামনে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহতের স্বামী ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সেলিম ঢাকায় একটি বায়িং হাউজে ড্রাইভার হিসেবে কাজ করেন। তারা এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে রাজধানীর তুরাগ নয়ানগর শুক্রভাঙ্গা এলাকায় বসবাস করতেন। কিছু দিন আগে বড় মেয়ের বিয়ে হয়।
এদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান উজ জামান জানাজায় অংশ নিয়ে নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তিনি সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

Facebook Comments Box