২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ঘটনা নতুন অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ এবং ‘পৌরনীতি ও সুশাসন’ বইয়ে এই অভ্যুত্থানের পটভূমি, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, শেখ হাসিনার শাসনের দমননীতি এবং তার পতনের বিস্তারিত বিবরণ স্থান পেয়েছে। এসব পাঠ্যে হাসিনার শাসনকে ‘ফ্যাসিবাদী’ ও ‘স্বৈরাচারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল, বিতর্কিত নির্বাচন এবং দুর্নীতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটির (এনসিসি) সাম্প্রতিক সভায় এই অধ্যায়গুলো অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। তবে কিছু পাঠ্যে হাসিনার ভূমিকা অস্পষ্টভাবে উপস্থাপনের সমালোচনা উঠেছে। অধ্যাপক সুলতানা রাজিয়া বলেন, “কিছু রচনায় শেখ হাসিনার নাম চতুরতার সঙ্গে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা সংশোধন করা প্রয়োজন।” এনসিটিবি জানিয়েছে, এই সমালোচনার ভিত্তিতে পাঠ্য সংশোধনের কাজ চলছে।

পাঠ্যগুলোতে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনকে ‘ভোটারবিহীন’ ও ‘প্রহসনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়া, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, নির্বিচার হত্যাকাণ্ড এবং ৫ আগস্ট ২০২৪-এ হাসিনার ভারতে পলায়নের ঘটনা বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশ্ন, বিতর্ক এবং প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবির গবেষণা কর্মকর্তারা জানান, এই পাঠ্যের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা জাগানো এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রেরণা দেওয়া। অধ্যাপক রবিউল কবির চৌধুরী বলেন, “পাঠ্যগুলো নিরপেক্ষভাবে লেখা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের সঠিক শিক্ষা পায়।”

Facebook Comments Box