জমির দলিলে ঘষামাজা করে জালিয়াতির মাধ্যমে বাড়তি জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জুলহাস উদ্দিন গাছা (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে ডামুড্যা উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে একটি আবেদনের শুনানি চলাকালে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত জুলহাস ডামুড্যা উপজেলার সম্ভুকাটি গ্রামের বাসিন্দা।

​ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শুনানিকালে জুলহাস ৭০৮/২০০৯ নম্বরের একটি জমি হস্তান্তরের দলিল উপস্থাপন করেন। সেখানে হস্তান্তরিত জমির পরিমাণ লেখা ছিল ২০ শতক। তবে উপস্থাপিত কাগজের বিভিন্ন পাতায় ঘষামাজার স্পষ্ট ছাপ দেখতে পেয়ে সন্দেহ হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের।

​পরবর্তীতে প্রকৃত তথ্য যাচাই করতে শরীয়তপুর সদর মহাফেজখানায় সংরক্ষিত মূল বালাম বই পরীক্ষা করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ওই দলিলের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে ১০ শতক জমি হস্তান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু জুলহাস মূল তথ্য গোপন ও পরিবর্তন করে ইতোমধ্যে ১২ শতক জমি নিজের নামে নামজারি করিয়ে নিয়েছেন।

​জাল দলিলের ওপর ভর করে বাকি ৮ শতক জমিও নিজের দখলে নিতে নতুন কৌশল আঁকেন অভিযুক্ত। নিজের ভাই হারুন গাছার নামে থাকা ২৫-১৩২ নম্বরের খতিয়ান বাতিলের জন্য আবেদন জানান তিনি। অভিযোগে দাবি করেন, তার ভাই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ভুল তথ্য দিয়ে অতিরিক্ত জমি নিজের নামে করে নিয়েছেন। নিজের দলিলটি আগের—এমন দাবি করে ভাইয়ের নামজারি বাতিল পূর্বক সম্পূর্ণ ২০ শতক জমি নিজের নামে নামজারির আর্জি জানান জুলহাস।

​তবে আবেদনের জট খুলতে গিয়ে কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সামনে উন্মোচিত হয় জালিয়াতির মূল সত্য। জালিয়াতি ও অসত্য তথ্য পরিবেশন করে কর্তৃপক্ষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটকে রেখে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

​পরবর্তীতে পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় একটি লিখিত এজাহার জমা দেন। একইসঙ্গে উদ্ধারকৃত জাল দলিলটি মামলার আলামত হিসেবে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

​এ বিষয়ে ডামুড্যা উপজেলা ভূমি কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যম জমি দখলের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখা হবে। নতুন ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী দলিলের অসত্য তথ্য বা জালিয়াতির প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। জমি সংক্রান্ত অপরাধ দমনে এই কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।

Facebook Comments Box