পৈতৃক ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা, বাড়িতে ঢুকে হামলা ও শ্লীলতাহানির পর এবার স্বামীপরিত্যক্তা এক নারীকে ধর্ষণ এবং তার ছয় বছর বয়সী শিশুকন্যাকে অপহরণের ভয়াবহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শরীয়তপুরের নড়িয়ার এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে নিজের ও অবুঝ শিশুর জীবন রক্ষায় জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী নারী। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী রুজিনা বেগম (৩৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের মশুরা গ্রামে নিজ পৈতৃক ভিটায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন রুজিনা বেগম ও তার পরিবার। জমিটির এসএ রেকর্ড তার প্রয়াত বাবা মন্টু তালুকদারের নামে এবং বিআরএস রেকর্ড রুজিনা ও তার দুই ভাই সাগর ও মামুনের নামে নিবন্ধিত। অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে এলাকার প্রভাবশালী নান্নু মিজি (৫০) ও ফতেজঙ্গপুর ইউনিয়নের সাতপাড় গ্রামের সবুজ খালাসী (৫০) একদল অনুসারী নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নান্নু মিজি ও সবুজ খালাসীর নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একদল সশস্ত্র লোক জোরপূর্বক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা রুজিনার দুই ভাই সাগর ও মামুনকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। রুজিনা বেগম ছোট ভাইদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানি করা হয়। চলে যাওয়ার সময় হামলাকারীরা হুমকি দেয় যে, অতিদ্রুত ভিটেমাটি ছেড়ে না দিলে রুজিনাকে ধর্ষণ করা হবে এবং তার ছয় বছরের শিশুকন্যা রোজাকে তুলে নিয়ে গিয়ে অনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হবে।
এই ন্যক্কারজনক হুমকির পর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি। অবুঝ মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে তাকে স্কুলের যাতায়াত বন্ধ করে দূরের এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছেন মা। রুজিনা বেগম জানান, হামলার পর তার ভাই সাগর তালুকদার নড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার আকুতি নিয়ে জেলা পুলিশ প্রধানের কাছে দ্বারস্থ হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত নান্নু মিজি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আমার নামে অভিযোগ দিলে আমি কী করব! সংবাদটি প্রকাশ করবেন না, আগামীকাল আপনার সাথে দেখা করব।”
অন্যদিকে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, “ভুক্তভোগী পরিবারটি থানায় আসুক, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেব।”
Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন