গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমশ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। পুলিশের ওপর ধারাবাহিক মব-হামলা, অস্ত্র ছিনতাই, ছিনতাইকারীদের মুক্তি, এবং সংঘবদ্ধ সহিংসতার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা ও মনোবল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ মাসে সারা দেশে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১৯৫টি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে হামলার সংখ্যা ছিল ৩১টি, যা আগস্টে বেড়ে দাঁড়ায় ৫১টিতে—এক মাসেই দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে, নরসিংদীতে চাঁদাবাজি রোধে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহত হয়েছেন, সিলেটে শাহপরান থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, ফেনীতে গ্রেপ্তার অভিযানে গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে ওয়াকিটকি ও শটগান ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, চট্টগ্রামে অটোরিকশা আটকের জেরে ৫০–৬০ জনের হামলায় ট্রাফিক কনস্টেবল আহত হয়েছেন, এবং হবিগঞ্জে চোরাই মোবাইল উদ্ধারে গিয়ে ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “পুলিশের মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের সঙ্গে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এই দুর্বলতা অপরাধীদের সাহসী করে তুলছে।”

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন পৃথক বিবৃতিতে এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে পুলিশের মনোবল দুর্বল করতে ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পেশাগত কাজে বাধা দিচ্ছে এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মব-সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে মাঠপর্যায়ে ‘আক্রমণাত্মক’ পুলিশিংয়ের পরিবর্তে ‘আত্মসমর্পণমূলক’ কৌশল গ্রহণের ফলে পুলিশের প্রতিক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Facebook Comments Box