বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মরত কর্মকর্তা মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। ৯ অক্টোবর তিনি সিলেটের তামাবিল সীমান্ত অতিক্রম করে কলকাতায় প্রবেশ করেন এবং বর্তমানে নিউ টাউন এলাকার সানজিবা গার্ডেন কমপ্লেক্সে সপরিবারে অবস্থান করছেন বলে ঢাকা ও কলকাতার নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সেনা সদর জানিয়েছে, কবীর আহাম্মদকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তাকে ‘ইলিগ্যালি অ্যাবসেন্ট’ ঘোষণা করা হয়েছে। সীমান্তে সতর্কতা জারি থাকা সত্ত্বেও তার দেশত্যাগ জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। এর আগে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, সাবেক আমলা ও অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের ভারতে আশ্রয়ের খবর পাওয়া গেলেও, কর্মরত কোনো জেনারেলের পালিয়ে যাওয়া এই প্রথম।
কলকাতার একটি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, কবীর আগেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সম্ভাবনা অনুমান করেছিলেন। গত এক মাস ধরে তিনি কলকাতায় যাতায়াত করছিলেন। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তিনি কয়েকদিন সেখানে অবস্থান করেন এবং পরে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। অবশেষে ৯ অক্টোবর তিনি স্থায়ীভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।
৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তাদের মধ্যে ২৫ জনই সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা। আলোচিতদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কবীর আহাম্মদ, যিনি শেখ হাসিনার সামরিক সচিব ও পরবর্তীতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, “কবীর আহাম্মদকে বিদেশে পালিয়ে যেতে না দেওয়ার জন্য সীমান্তে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবুও তিনি পালাতে সক্ষম হয়েছেন।”
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ প্রফেসর এম শহীদুজ্জামান মন্তব্য করেন, “যদি ভারত তাকে আশ্রয় দেয়, তবে তা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।” রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, “এই পালানো কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। সেনাবাহিনীকে অবশ্যই ব্যাখ্যা দিতে হবে কীভাবে একজন কর্মরত জেনারেল পালাতে পারল।”

মন্তব্য করুন