মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। প্রাথমিক তদন্তে এসব ঘটনাকে পরিকল্পিত নাশকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার লক্ষ্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করা।

১৪ অক্টোবর ঢাকার রূপনগরে একটি কেমিক্যাল গোডাউন ও সংলগ্ন পোশাক কারখানায় আগুনে ১৬ জনের মৃত্যু এবং বিপুল সম্পদহানি ঘটে। এরপর ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের সিইপিজেডে ‘অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল’ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ তলা ভবনের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সর্বশেষ ১৮ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আগুনে উড়োজাহাজ চলাচল সাময়িক স্থগিত হয় এবং ২৫ আনসার সদস্য আহত হন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাগুলোর ধরন ও লক্ষ্যবস্তু বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়—এটি কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমদানিসংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শত্রুরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয়। এসব অগ্নিকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত, জনগণ তা বুঝতে পারছে।” জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা সারজিস আলম বলেন, “বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভাবা ভুল হবে। এটি একটি চক্রান্তের অংশ।”

নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ষড়যন্ত্রকারীরা পরবর্তী টার্গেট হিসেবে মেট্রোরেল ও সামরিক স্থাপনাকে বিবেচনায় নিয়েছে। মেট্রোরেল দেশের আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার প্রতীক, যার ওপর হামলা হলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়বে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।

আরও জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পতনের পর কয়েকজন নেতা বিদেশে অবস্থান করছেন এবং কলকাতা ও দিল্লিতে বৈঠকের মাধ্যমে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। ১১ অক্টোবর দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর থেকেই অগ্নিকাণ্ডের ধারাবাহিকতা শুরু হয়।

সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে চক্রান্তকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং নাশকতা প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box