বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে সঞ্চয়পত্র রক্ষণাবেক্ষণ সিস্টেমে সংঘটিত এক অভিনব জালিয়াতির ঘটনায় গ্রাহকের অজান্তেই ২৫ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে একটি প্রতারকচক্র। সোমবার (২৭ অক্টোবর) গ্রাহকের অনুমতি ছাড়াই তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিবর্তন করে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, অগ্রণী ব্যাংকের প্রেস ক্লাব শাখার অ্যাকাউন্টের বিপরীতে কেনা একটি সঞ্চয়পত্রের অর্থ হঠাৎই স্থানান্তরিত হয় এনআরবিসি ব্যাংকের দিনাজপুর উপশাখায়। সেখান থেকে শ্যামলী শাখার মাধ্যমে পুরো অর্থ তুলে নেয় চক্রটি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, একই ধরনের আরও দুটি সঞ্চয়পত্র অ্যাকাউন্টে হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সেগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। ইতোমধ্যে এনআরবিসি ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে, যেহেতু সঞ্চয়পত্রের সার্ভার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন, তাই মন্ত্রণালয়ও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সার্ভার নিরাপত্তা ঘাটতি, নাকি বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কারো যোগসাজশ—তা খতিয়ে দেখছে উভয় কমিটি।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর একটি প্রতিনিধিদল বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

২০১৯ সালে একই নামে একাধিক সঞ্চয়পত্র কেনা ঠেকাতে ‘জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালু করে সরকার। এই সিস্টেমে প্রতিটি সঞ্চয়পত্রের তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত হয়। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংক পরিবর্তনের জন্য গ্রাহককে নিজ শাখায় আবেদন করতে হয়। কিন্তু এই ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় কোনো আবেদন জমা পড়েনি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন,
“ঘটনাটি জানার পরপরই আমরা একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি এবং থানায় জিডি করেছি।”

মতিঝিল থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান,
“ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় একজন বিশেষ কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

সঞ্চয়পত্র দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য একটি জনপ্রিয় বিনিয়োগ মাধ্যম। অধিক মুনাফা ও নিরাপত্তার কারণে অনেকেই এটি বেছে নেন। বর্তমানে পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এসব সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হারও তুলনামূলকভাবে বেশি।

তবে এই জালিয়াতির ঘটনা সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনায় সাইবার নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ নজরদারির দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

Facebook Comments Box