খুলনা, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ — বয়সের সীমা পেরিয়ে জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে নতুন করে শিক্ষার আলোয় পথ খুঁজে নিয়েছেন খুলনার শাম্মী আক্তার। ৫৬ বছর বয়সে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৩.১৮ পেয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।
মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শাম্মীর এই অর্জনের পেছনে রয়েছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, স্বামী ও সন্তানের অনুপ্রেরণা এবং রাতভর অধ্যবসায়ের গল্প।
১৯৮৮ সালে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন শাম্মী। সংসার, সন্তান ও দায়িত্বের ভারে থেমে যায় তার পড়াশোনা। কিন্তু নিজের শিক্ষার স্বপ্ন কখনোই বিসর্জন দেননি।
২০১৯ সালে ছেলে ও স্বামীর উৎসাহে আবারও পড়াশোনার আগ্রহ জাগে তার মনে। ইকবাল নগর বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও কোর্স বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে বদলি প্রতিষ্ঠান থেকেও ভর্তি বাতিলের খবর পেয়ে ভেঙে পড়েন।
তবু ২০২১ সালে এক শিক্ষকের খুদে বার্তা তাকে আবার জাগিয়ে তোলে। পরিবারের সমর্থনে নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করেন। ২০২৩ সালে এসএসসি পাসের পর এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সফলতা অর্জন করেন।
শাম্মী বলেন, “পরিবারের সব কাজ শেষ করে রাত ১১টার পর পড়তে বসতাম। কখন যে রাত দুটো বা তিনটে বাজে, টেরই পেতাম না। কোনো প্রাইভেট শিক্ষক ছিল না, ইউটিউব দেখে ইংরেজি শিখেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বয়স ৫৬, কিন্তু আমি কখনোই তা মাথায় আনি না। আমি একজন মানুষ, আমার অনেক দূর যেতে হবে। এবার অনার্সে ভর্তি হব।”
শাম্মী বর্তমানে খুলনার করিমনগরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি ছোট ব্যবসা পরিচালনা করছেন। উদ্যোক্তা হিসেবে বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।
তার গল্প প্রমাণ করে—ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য ও পারিবারিক সমর্থন থাকলে বয়স কোনো বাধা নয়।

মন্তব্য করুন