পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ফারুক ওরফে কুত্তা ফারুক এবং রবিন সরাসরি শুটার হিসেবে অংশ নেন। সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার হন রুবেল, বাকি দুইজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, তাদের সিলেটের মৌলভীবাজার থেকে অনুসরণ করে নরসিংদীর ইটাখোলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ঢাকার রায়েরবাজার এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মামুনকে হত্যার আগে একজন তাকে অনুসরণ করছিল। গুলি চালায় দুজন, তবে আশপাশে দুটি ব্যাকআপ টিমও প্রস্তুত ছিল, যাদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকালে, যখন মামুন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি ২৮ বছর আগের একটি হত্যা মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার সময় হামলার শিকার হন।
এর আগে ২০২৩ সালে কারামুক্তির তিন মাস পর তেজগাঁওয়ে তার ওপর হামলা হয়েছিল, যেখানে এক আইনজীবী নিহত হন। মামুন ছিলেন ‘ইমন-মামুন বাহিনী’র অন্যতম নেতা এবং চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার আসামি।
তার স্ত্রী বিলকিস আক্তার দাবি করেছেন, মামুন সাধারণ জীবনযাপন করছিলেন এবং পূর্বের হামলাকারীরাই এবারও তাকে হত্যা করেছে।
এদিকে, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের জন্য ডিএমপি কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন চিফ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আদালত এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের সমাগম ঘটে। সোমবারের হত্যাকাণ্ড আদালতপাড়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে।
চিঠিতে ৩৭টি আদালতের বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন