ঢাকা, ১৭ নভেম্বর ২০২৫: জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেছে। চার মাস সাত দিন ধরে বিচার কার্যক্রম শেষে সোমবার এ রায় দেওয়া হয়।

রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আইনি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ নয়। সামনে রয়েছে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

পরবর্তী আইনি ধাপগুলো:
– আপিল: আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩ অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করতে পারেন। রাষ্ট্র বা অভিযোগকারী পক্ষও আপিল করতে পারে। তবে পলাতক আসামিকে প্রথমে আত্মসমর্পণ করতে হবে। রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করতে হয় এবং ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে।
– রিভিউ: আপিলের পর থাকে পুনর্বিবেচনা আবেদন। এখানে আসামি আপিল রায়ের আইনি ত্রুটি বা ভুল ব্যাখ্যা তুলে ধরতে পারেন। অতীতে রিভিউতে দণ্ড পরিবর্তন বা খালাস পাওয়ার নজির রয়েছে।
– রাষ্ট্রপতির ক্ষমা: সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন। রাষ্ট্রপতি দণ্ড কমানো, স্থগিত বা মওকুফ করার ক্ষমতা রাখেন।

এ ছাড়া রায়ের অংশ হিসেবে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সরকার এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে।

Facebook Comments Box