রাজধানীর পল্লবীতে যুবদল নেতা ও থানা কমিটির সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ১২ নম্বর সেকশনের বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানে বসে থাকা অবস্থায় মুখোশধারী শুটাররা তার ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনজন কাছ থেকে গুলি করে এবং আরও তিনজন বাইরে পাহারা দেয়। মোট ১৮ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই শুটাররা মোটরবাইকে পালিয়ে যায়। তবে জনি ভূঁইয়া নামে একজন পালাতে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দিনা জনিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ভাড়াটে খুনের সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয়রা বলছেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী মামুনের লোকজন জড়িত। এর আগে একই চক্রের বিরুদ্ধে বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতাদের মতে, যুবদল কমিটি ও মিরপুর-৭ নম্বরের একটি গার্মেন্টসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধই হত্যার মূল কারণ।

কিবরিয়ার রাজনৈতিক সহচর আমান বলেন, “তিনি এলাকায় মাদক নির্মূলের কাজ করছিলেন, সেটিই তার জীবনের কাল হলো।” নিহতের ছোট ভাই গোলাম কবির জানান, “ভাই সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন। তার জনপ্রিয়তাই প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, “হত্যার নেপথ্যে একাধিক কারণ পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।”

গতকাল বিকেলে স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে কালশী কবরস্থানে কিবরিয়াকে দাফন করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলবে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়রা জানান, কিবরিয়া একসময় জাতীয় দলের ফুটবলার ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

Facebook Comments Box