ন্যানোবিজ্ঞানে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ ন্যানোকণা (Gold Nanoparticle) তৈরিতে উচ্চ ব্যয়, জটিলতা ও স্থায়িত্ব—এই তিনের সমন্বয় বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে স্বল্প খরচে, সহজ উপায়ে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে স্বর্ণ ন্যানোকণা তৈরির নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন গবেষক ড. মো. আব্দুল আজিজ ও তাঁর গবেষণা দল।

ড. আজিজ বর্তমানে সৌদি আরবের কিং ফাহাদ ইউনিভার্সিটি অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মিনারেলসের ইন্টারডিসিপ্লিনারি রিসার্চ সেন্টার ফর হাইড্রোজেন টেকনোলজিস অ্যান্ড কার্বন ম্যানেজমেন্ট এবং সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের লিড রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে কর্মরত।

তাঁদের গবেষণা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নাল The Chemical Record ও Gold Bulletin–এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পামোয়িক অ্যাসিড নামের সস্তা ও নিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহার করে ঘরোয়া তাপমাত্রায় মাত্র কয়েক মিনিটেই উচ্চমানের স্বর্ণ ন্যানোকণা তৈরি করা সম্ভব। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই প্রক্রিয়ায় কোনো জটিল যন্ত্রপাতি, ব্যয়বহুল উপকরণ কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রয়োজন হয় না।

গবেষকদলের মতে, পামোয়িক অ্যাসিড একই সঙ্গে রিডিউসিং এজেন্ট ও স্ট্যাবিলাইজার হিসেবে কাজ করে। ফলে উৎপাদিত ন্যানোকণা ১০ বছরেরও বেশি সময় স্থিতিশীল থাকে—যা প্রচলিত অনেক ন্যানোম্যাটেরিয়ালে দেখা যায় না। দীর্ঘস্থায়িত্বের ফলে বারবার নতুন ব্যাচ তৈরির প্রয়োজন না হওয়ায় গবেষণাগারের সময় ও ব্যয় উভয়ই কমে আসে।

স্বর্ণ ন্যানোকণাগুলো সম্পূর্ণ বায়োকম্প্যাটিবল হওয়ায় চিকিৎসা প্রযুক্তি, ড্রাগ ডেলিভারি, বায়োসেন্সিং, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং শিল্প গবেষণায় এর ব্যবহার আরও সহজ হবে। কণার বাইরের কার্বক্সিল গ্রুপ বিভিন্ন জৈব অণুর সঙ্গে দ্রুত যুক্ত হতে পারে, যা এর প্রয়োগক্ষেত্রকে বিস্তৃত করে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, উদ্ভাবিত ন্যানোকণা শক্তিশালী ক্যাটালিটিক, অপটিক্যাল ও ইলেকট্রোকেমিক্যাল কর্মক্ষমতা প্রদর্শন করে। ফলে অতি সংবেদনশীল সেন্সর, চিকিৎসা–নির্ণয় ডিভাইস এবং দূষণ শনাক্তকরণ প্রযুক্তিতে এর ব্যবহার সম্ভাবনাময়।

গবেষকেরা মনে করছেন, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ন্যানোম্যাটেরিয়াল তৈরির বৈশ্বিক প্রচেষ্টার সঙ্গে এই পদ্ধতি সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশের গবেষণাগারগুলোতেও এটি সহজে প্রয়োগ করা যাবে। তাঁদের প্রত্যাশা, এ উদ্ভাবন ন্যানোবিজ্ঞানকে আরও সহজ ও জনপ্রিয় করে নতুন গবেষণার দ্বার উন্মুক্ত করবে।

Facebook Comments Box