ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আবু জাফরের সঙ্গে তর্ক করায় চিকিৎসক ধনদেব চন্দ্র বর্মণকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করা হয়েছে।

হাসপাতাল প্রশাসন গতকাল শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে এই সিদ্ধান্ত নেয়। নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত চিকিৎসককে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বিকেল চারটার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস এই অব্যাহতি ও শোকজ নোটিশ জারি করেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাইনউদ্দিন খান গণমাধ্যমকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা সরকারি চাকরির বিধিমালার পরিপন্থী। এ কারণেই ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি মো. আবু জাফর হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। পরিদর্শনকালে তিনি কক্ষের ভেতরে টেবিল থাকার কারণ জানতে চান। এ সময় জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ধনদেব চন্দ্র বর্মণ ডিজির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।

ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণ ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট থেকে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। চলতি বছরের জুলাই মাসে আবাসিক সার্জন থেকে তিনি সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান।

ঘটনার পর ধনদেব চন্দ্র বর্মণ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ডিজির কাছ থেকে গুরুজনের মতো ব্যবহার আশা করেছিলাম। কিন্তু তিনি এসে কী কী সমস্যা, সেগুলো জানতে না চেয়ে ভেতরে কেন টেবিল, এ নিয়ে কথা বলেন।’

নিজের চাকরিজীবন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার বন্ধুরা সব অধ্যাপক হয়ে গেছে। আমার চাকরিজীবন শেষ, কিন্তু আমার হয়নি বিভিন্ন কারণে। এ জন্য আমার চাকরি থেকে সাসপেনশন হলে আমি খুশি হই।’

Facebook Comments Box