বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে যে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় অবতরণের কথা ছিল, সেটির অনুমোদনের স্লট প্রত্যাহারের আবেদন করেছে অপারেটর সংস্থা। ফলে আপাতত লন্ডন যাওয়া হচ্ছে না সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দায়িত্বশীল সূত্র সোমবার বিকেলে নিশ্চিত করেছে যে, জার্মানিভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ স্থানীয় সমন্বয়কারী সংস্থার মাধ্যমে ল্যান্ডিং পারমিট বাতিলের আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে। আবেদনটি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে।
এর আগে, কাতার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ভাড়া করা বোম্বার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০৪ মডেলের এই বিজনেস জেটটি মঙ্গলবার সকাল ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার এবং ওই দিন রাতেই লন্ডনের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের কথা ছিল। তবে ঠিক কী কারণে স্লট প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিমানে কারিগরি সমস্যা নাকি নেত্রীর শারীরিক জটিলতা দায়ী—তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ৭৯ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া। লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতাসহ একাধিক দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় ভুগছেন তিনি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার আকাশযাত্রার ধকল সইবার মতো শারীরিক স্থিতিশীলতা এখনও আসেনি।
খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রার তারিখ এর আগে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৫ ডিসেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বরে পিছিয়েছিল। পরে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে ৯ ডিসেম্বর চূড়ান্ত করা হলেও শেষ মুহূর্তে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের এই আবেদন প্রত্যাহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। আপাতত হাসপাতাল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুধুই অপেক্ষার সুর।

মন্তব্য করুন