রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনের পর আয়েশার স্বামী রাব্বী দাবি করেছেন, চুরির সময় গৃহকর্ত্রী হাতেনাতে দেখে ফেলায় এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটেছে। আয়েশা তার স্বামীকে কিছু চুরি করা মালামাল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলেও রাব্বী পুলিশকে জানিয়েছেন।

রাব্বীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে আয়েশা যখন গৃহকর্তা এম জেড আজিজুল ইসলামের বাসা থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল চুরি করার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজ (৪৮) তাকে ধরে ফেলেন।

ধরা পড়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাব্বী দাবি করেন, লায়লা আফরোজ তাকে যতক্ষণ ধরে রেখেছিলেন, ততক্ষণ আয়েশা হাতে থাকা ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। এরপর লায়লার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫) তার মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আয়েশা তাকেও ছুরিকাঘাত করে নৃশংসতা ঘটান।

মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ বুধবার দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটির কয়ার চর গ্রাম থেকে আয়েশাকে গ্রেপ্তার করে। মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি বিশেষ দল এই অভিযানে অংশ নেয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মা ও মেয়ে খুন হন সোমবার সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের বাসায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আয়েশা প্রথমে বোরকা পরে ওই বাসায় প্রবেশ করেন। মা ও মেয়েকে হত্যার পর তিনি ১৫ বছর বয়সী নাফিসার স্কুল ড্রেস ও মাস্ক পরিধান করে সেখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে যান। তদন্তকারীরা জানান, অভিযুক্ত আয়েশা মাত্র চার দিন আগে ওই বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং এই মিথ্যা পরিচয়ে নিজেকে আয়েশা নামে উপস্থাপন করেন।

Facebook Comments Box