রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বহুল আলোচিত মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক রহস্য জট খুলেছে। প্রধান আসামি গৃহকর্মী আয়েশা আক্তারকে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, আয়েশাকে ধরিয়ে দিতে পুলিশকে সবচেয়ে বড় সাহায্যটি করেছেন তার নিজ শাশুড়ি রুমা বেগম। বৃহস্পতিবার পুলিশ জানায়, কেবল চুরি নয়, বরং হত্যার উদ্দেশ্য নিয়েই ধারালো অস্ত্রসহ শাহজাহান রোডের ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছিলেন আয়েশা।
গ্রেপ্তারকৃত আয়েশা ও তার স্বামী জামাল সিকদার রাব্বি গত বুধবার দুপুরে নলছিটির কয়ারচর গ্রামে দাদা রুস্তুম সিকদারের বাড়ি থেকে পুলিশের জালে ধরা পড়েন। হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকা থেকে লঞ্চে পালিয়ে তারা বরিশালের দপদপিয়া হয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দীর্ঘ ১৫ বছর পর হঠাৎ অচেনা এক তরুণীকে নিয়ে রাব্বির এলাকায় ফেরা নিয়ে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। পরে জানা যায়, সেই তরুণীই মূলত জোড়া খুনের পলাতক আসামি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শাহজাহান রোডের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার সুবাদে আগে থেকেই মালামাল চুরির ছক কষেছিলেন আয়েশা। সোমবার সকালে গৃহিণী লায়লা আফরোজ এবং তার নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে নাফিসাকে একা পেয়ে তিনি হামলা চালান। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আয়েশা তার সাথে থাকা ছুরি-চাকু দিয়ে মা ও মেয়েকে নির্মমভাবে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা স্বীকার করেছেন যে, তিনি আগেও এ ধরণের অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন।
নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী উত্তরা সানবীমস স্কুলের শিক্ষক এম জেড আজিজুল ইসলাম সেদিন বাসায় ছিলেন না। মা-মেয়ে খুনের এই ঘটনায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে ঝালকাঠির প্রত্যন্ত কয়ারচর গ্রাম পর্যন্ত তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান পরিচালনা করে। এলাকাবাসী এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




মন্তব্য করুন