অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বারা ‘অপমানিত বোধ করছেন’ উল্লেখ করে পদত্যাগের পরিকল্পনা করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে চান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার এই অভিমানের কথা প্রকাশ করেছেন।

ঢাকায় নিজের বাসভবন বঙ্গভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, “আমি সরে যেতে চাই। আমি চলে যেতে আগ্রহী।” তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে চান বলে জানান।

রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, গত প্রায় সাত মাস ধরে অধ্যাপক ইউনূস তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। এমনকি রাষ্ট্রপতির জনসংযোগ বিভাগ নিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, “সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি, রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল। হঠাৎ এক রাতেই সেগুলো উধাও করে ফেলা হয়েছে। আমি খুবই অপমানিত বোধ করেছিলাম।”

তিনি আরও জানান, প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলার বিষয়ে তিনি অধ্যাপক ইউনূসকে লিখিতভাবে বলেছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার অভিযোগ, “আমার কণ্ঠরোধ করা হয়েছে।” তবে এই বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূসের প্রেস সচিবদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রবীণ এই রাজনীতিক ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি পালিয়ে যাওয়ার পর সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বহাল থাকেন, যদিও তার পদটি অনেকটাই আলংকারিক।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হয়। সেনাপ্রধান নিশ্চিত করেছেন যে তার দেশের ক্ষমতা নেওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই এবং তিনি চান দেশে দ্রুত গণতন্ত্র ফিরে আসুক। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি দলনিরপেক্ষ অবস্থানে আছেন বলেও নিশ্চিত করেন।

Facebook Comments Box