দেশের ব্যাংকিং খাতে ডলারের আধিপত্য কমিয়ে খরচ সাশ্রয় করতে বাংলাদেশের কোনো একটি দুর্বল ব্যাংক চীনকে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (BCCCI)। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) এক আলোচনার প্রেক্ষিতে এই নতুন অর্থনৈতিক কৌশলের কথা সামনে আসে।
বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি বছর চীন থেকে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করলেও দেশে কোনো চীনা ব্যাংক নেই। ফলে ব্যবসায়ীদের টাকা থেকে ডলার এবং ডলার থেকে চীনা মুদ্রায় রূপান্তরের কারণে কয়েক ধাপে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে।
বিসিসিআই সভাপতি মোহা. খোরশেদ আলম জানান, চীন যদি বাংলাদেশের কোনো দুর্বল ব্যাংক কিনে নিয়ে পরিচালনা শুরু করে, তবে এলসি খোলার খরচ অন্তত ১ শতাংশ কমে যাবে। পাশাপাশি চীনের কারিগরি দক্ষতা বিনিময় দেশের ব্যাংক খাতের সংস্কারে ভূমিকা রাখবে।
অর্থনীতিবিদরা এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, চীনের ব্যাংক সরাসরি দেশে কার্যক্রম শুরু করলে ডলারের ওপর নির্ভরতা কমবে। এছাড়া চীনা ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মূলধন সরবরাহ করলে দেশের ভঙ্গুর ব্যাংকগুলোর জন্য এটি একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।
পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকেও এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি বড় প্রকল্পগুলোর লেনদেন এবং সাধারণ আমদানিকারকদের জন্য সরাসরি চীনা মুদ্রায় লেনদেনের সুযোগ তৈরি হলে বাণিজ্যে গতি আসবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন থেকে বাংলাদেশ ১৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিশাল এই বাণিজ্যের বিপরীতে সরাসরি ব্যাংকিং সুবিধা না থাকায় আমদানিকারকরা দীর্ঘ দিন ধরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

মন্তব্য করুন