দেশের ক্রমবর্ধমান শব্দদূষণ রুখতে অন্তর্বর্তী সরকার সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে ট্রাফিক পুলিশকে সরাসরি জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করেছে।
নতুন জারিকৃত ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী এখন থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতেও ট্রাফিক সার্জেন্ট বা তদুর্ধ্ব কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
সড়ক বা নৌপথে শব্দের অনুমোদিত মানমাত্রা অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট যানকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে গাড়িটি তৎক্ষণাৎ জব্দ করার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।
বিধিমালা অনুসারে আবাসিক এলাকায় শব্দের মাত্রা দিনে ৫৫ ও রাতে ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং বাণিজ্যিক এলাকায় এই সীমা দিনের বেলায় ৭০ ডেসিবেল।
বিশেষ করে সাইলেন্স জোন বা নীরব এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা, মাইক ও লাউডস্পিকারের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে যা নির্বাচনী সংস্কৃতির জন্য একটি বড় পরিবর্তন।
রাত ১১টার পর যেকোনো ধরনের উচ্চ শব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্রের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিশেষ প্রয়োজনে সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টার জন্য অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশকে ইতোমধ্যে আধুনিক ‘সাউন্ড লেভেল ডিটেক্টর’ প্রদান করা হয়েছে যা বৈজ্ঞানিকভাবে শব্দের মাত্রা পরিমাপ করে তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
কেবল জরিমানা নয় বরং ট্রাফিক আইন ভঙ্গের দায়ে চালকের লাইসেন্স থেকে পয়েন্ট কর্তনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যা বারবার আইন লঙ্ঘনকারীদের লাইসেন্স বাতিলের পথ সুগম করবে।
পরিবেশবাদীরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন যে জনবল সংকটে থাকা পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিপূরক হিসেবে পুলিশ এখন থেকে ফ্রন্টলাইনে কাজ করবে।




মন্তব্য করুন