ন্যায়বিচার ও সাম্যের নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামীতে এমন এক বিচারব্যবস্থা কায়েম করা হবে যেখানে কোনো সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে শাস্তি পাবেন, দেশের রাষ্ট্রপতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী একই অপরাধ করলেও আইন তাকে কোনো ছাড় দেবে না।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসনের প্রার্থীর সমর্থনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

ভোট জালিয়াতি ও জবরদখলের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব—এই স্লোগান চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। এখন যার ভোট সেই দেবেন। জনগণের ভোটের ওপর কেউ যদি ‘কালো চিল’ হয়ে ছোবল দিতে আসে, তবে তার ডানা কেটে দেওয়া হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, অবাধ ভোটের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবে, তাদেরই জামায়াত সাদরে গ্রহণ করবে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও একই সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রথম ভোট দিতে হবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিতে হবে। এই ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি আর ‘না’ মানে গোলামি।”

বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গুম এবং আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতনের সংস্কৃতির অবসান চান। তিনি বলেন, “আমরা মানচিত্র বদলাতে চাই না, রাষ্ট্রের খাসলত বা চরিত্র বদলাতে চাই। যেখানে সংখ্যালঘু বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ—কেউই দমনের শিকার হবে না।”

ফরিদপুর-১ আসনের প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লার সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বদিরুদ্দিন ও খেলাফতে মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুফতি শারাফাত হোসাইন।

Facebook Comments Box