ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও এর ৪০০ গজের মধ্যে সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক কমিটিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ইসি এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের সোমবার বিকেলে গণমাধ্যমকে জানান, বিকেলে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তারা এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। এরপর কমিশনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি জানানো হয়। যেকোনো সময় এ সংক্রান্ত সরকারি চিঠি বা প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ইসির এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রের ৪শ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার অর্থ হলো ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা জালিয়াতিকে প্রশ্রয় দেওয়া। কারণ, ব্যক্তিগত ফোনের মাধ্যমেই নাগরিকরা অনিয়মের ভিডিও রেকর্ড করে তাৎক্ষণিক তথ্য ছড়িয়ে দিতে পারেন।

উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর আমিরসহ শীর্ষ নেতারা এই সিদ্ধান্তকে ‘ফ্যাসিবাদী’ ও ‘ভোট চুরির মহড়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানুষ মোবাইল ছাড়া কেন্দ্রে যেতে আগ্রহী হবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ফেরাতে ইসি তাদের আগের অবস্থান পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Facebook Comments Box