সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের প্রাপ্ত ফলাফল নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। জোটের দাবি, অন্তত ৫৩টি আসনে তাদের প্রার্থীরা ১০ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। পরিকল্পিত কারচুপি না হলে দলটির আসন সংখ্যা ১২০ ছাড়িয়ে যেত বলে মনে করছে জোটের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ড. যোবায়ের আহমদ জানান, অনেক আসনে বিজয়ী প্রার্থীর সঙ্গে তাদের প্রার্থীদের ব্যবধান ছিল অতি সামান্য। বিশেষ করে খুলনা-৫ আসনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মাত্র ২ হাজার ৬০৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজার-৪ আসনে ব্যবধান মাত্র ৯২৯ ভোট এবং চট্টগ্রাম-১৪ আসনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী হেরেছেন মাত্র ১ হাজার ২৬ ভোটে।
নির্বাচনী মাঠের কর্মীদের অভিযোগ, অনেক কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোট প্রদান করা হয়েছে। গড়ে প্রতিটি কেন্দ্রে ৫০ থেকে ১০০টি করে জাল ভোট পড়ার দাবি তুলেছেন তারা। ঢাকা-১০, ঢাকা-১৭, ঢাকা-৭ এবং পিরোজপুর-২ আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতেও কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীদের হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজধানীর বাইরে ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, সিরাজগঞ্জ-১ এবং ময়মনসিংহের বিভিন্ন আসনেও একইভাবে ফল বিপর্যয়ের দাবি করা হয়েছে। ঢাকার বাইরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনেও হারের ব্যবধান মাত্র ১ হাজার ৬১ ভোট।
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রভিত্তিক প্রাপ্ত ফলাফল এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল বর্তমানে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষিত ফলাফল স্থগিত ও ভোট পুনঃগণনার দাবি জানিয়েছেন। ত্রুটিপূর্ণ আসনগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ১১ দলীয় জোট।




মন্তব্য করুন