নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মধ্যেই ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচিত ৬ সদস্য আজ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন কি না, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দলটি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত হলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে দলটির কড়া আপত্তির মুখে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের দলের কেউ ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি। এছাড়া বর্তমান সংবিধানে এই পরিষদের কোনো আইনি ভিত্তি বা বিধান অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে বিএনপির এমপিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই শপথ নেবেন, সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নয়।
বিএনপির এমন অনড় অবস্থানের পর এনসিপির অভ্যন্তরে দ্বিধাবিভক্তি দেখা দিয়েছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত কালবেলাকে জানিয়েছেন, সংস্কার পরিষদের শপথ প্রক্রিয়া এড়িয়ে কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে তারা শপথ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এনসিপির মিডিয়া সেল ও জোটের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা বর্তমানে জরুরি বৈঠকে বসেছেন। এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই নির্ধারিত হবে তারা শপথ কক্ষে যাবেন কি না। এনসিপির নির্বাচিত এক প্রার্থী জানিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের বিষয়টি ঝুলে গেলে তারা পুরো প্রক্রিয়া থেকেই বিরত থাকতে পারেন।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এনসিপিসহ জামায়াত-ঘনিষ্ঠ জোটগুলো ৭৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী ‘জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী এই সংসদ সদস্যদের দুই ধরনের শপথ নেওয়ার কথা ছিল, যা নিয়ে এখন সংসদের ভেতরে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরির উপক্রম হয়েছে।

মন্তব্য করুন