জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর ‘সংসদ সদস্য’ হিসেবে শপথ নিলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শপথ চলাকালে তারা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
এর আগে সকালে ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত ইশরাক হোসেন নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারায় বিএনপির অন্য সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শপথ নিতে পারেননি। পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি জামায়াতের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে এমপি হিসেবে শপথ নেন। একই সময়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন রুমিন ফারহানা।
তবে বিপত্তি বাধে দ্বিতীয় দফার শপথ নিয়ে। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ পড়াতে শুরু করেন। এ সময় রুমিন ফারহানা ও ইশরাক হোসেন শপথ গ্রহণ না করে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শুরু থেকেই এই অতিরিক্ত শপথ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। তাদের মতে, বর্তমান সংবিধানে সংস্কার পরিষদের কোনো বিধান অন্তর্ভুক্ত নেই। তবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির ৬৮ জন সদস্য এই দ্বিতীয় শপথে অংশ নেন এবং নির্ধারিত ফরমে সই করেন।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জানান, তিনি কেবল জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে শপথ নিয়েছেন; কোনো অসাংবিধানিক পরিষদের অংশ হতে তিনি নারাজ। অন্যদিকে, ইশরাক হোসেনও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি একাত্মতা পোষণ করে সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করেন।
এদিকে, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথের পর বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। আজ বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।

মন্তব্য করুন