দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসতে আসতে প্রচারও হয়ে উঠছে জমজমাট। প্রার্থীরা তো বটেই, কর্মী-সমর্থকরাও আরো বেশি ব্যস্ত সময় কাটাতে শুরু করেছেন ভোটের প্রচারে। শরীয়তপুর-২ আসনের নড়িয়া উপজেলার পথঘাটেও তেমনি নির্বাচনের স্লোগানে মুখর।
বুধবার (৩ জানুয়ারি) নড়িয়া-সখিপুর ঘুরে দেখা যায়, মিছিলের পাশাপাশি প্রার্থীরা পথসভা ও উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন নির্বাচনি নানা প্রতিশ্রুতি। পাশাপাশি পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করতে সমর্থকরাও আলাদাভাবে গণসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।
জেলার (নড়িয়া-সখিপুর) নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-২ আসন। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একে এম এনামুল হক শামীম। এই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আরও দশজন। তবে তার সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. খালেদ শওকত আলীর সাথে। একই আসনে শক্তিশালী দুই প্রার্থীর কারণে জেলার তিন আসনের মধ্যে এই আসনটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
মাঠের সমীকরণ বলছে, এই আসনে এবার নির্বাচনে লড়াই হবে দুজনের মধ্যে। ভোটের মাঠে দুই প্রার্থীর কেউই কাউকে ছেড়ে কথা বলবেন না। তারপরও সাধারণ ভোটারদের দৃষ্টিতে এখন পর্যন্ত নৌকা প্রতীকই এগিয়ে রয়েছে এই আসনে। কার্তিকপুর এলাকার ভোটার রুমান আলবাজ ঢাকা মেইল কে বলেন, এই এলাকার মানুষ আতঙ্কে থাকতো, কবে যেন তাদের জাগা জমি নদীর পানিতে বিলীন হয়ে যায়। সেই নদী ভাঙ্গন এমপি সাহেব ( এ কে এম এনামুল হক শামীম) বন্ধ করে দিয়েছেন। আরও অনেক উন্নয়ন করেছেন আমাদের এলাকার। উনি এমপি হইলে সবার জন্য ভালো হবে।
নড়িয়ার আক্তার বলেন, শরীয়তপুরের মধ্যে নড়িয়া এখন সবচেয়ে বেশি উন্নত। আমাদের মন্ত্রীর কারণে এখানে জয় বাংলায় ভিন্ন হয়েছে। যা মিনি কক্সবাজারের সাথে তুলনা করা হয়। আমরা নদী ভাঙ্গন থেকে বেঁচে গেছি। আমাদের এমপি সাহেব (এনামুল হক শামীম) কেই চাই।
স্থানীয় চায়ের দোকানদার নয়ন বলেন, গত কয়েক বছরে এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবচেয়ে ভালো ছিল। একসময় চাঁদা দিতে দিতে খাওয়া-পরার টাকা পর্যন্ত টিকত না। মন্ত্রী সাহেব ( একেএম এনামুল হক শামীম) আসার পর থেকে কোনো ধরনের চাঁদা দিতে হয়নি।
এদিকে বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে নড়িয়া-সখিপুর এর উন্নয়ন, সুশাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির কথা বারবার তুলে ধরেন। বলেন, এখানকার মানুষের পাশে তিনি ছিলেন, আছেন এবং ভবিষ্যতেও সবসময় থাকবেন।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই এই আসনের প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটাররা বলছেন, সব প্রার্থীর মধ্যে প্রচারেও সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আওয়ামী লীগের একেএম এনামুল হক শামীম। বাকি প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর ছেলে খালেদ শওকত যথেষ্ট সক্রিয় ভোটের মাঠে।

মন্তব্য করুন