শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার মামুন তালুকদার প্রাবাসে স্বামি থাকে এই ধরনের যুবতি গৃহবধুদের টার্গেট করে তাদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে ব্লাকমেইল করার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নামধারী মামুন তালুকদারের বিভিন্ন প্রকার নির্যাতন, অপকর্ম ও অসমাজিক কর্মকান্ডে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগটি করেছেন, দক্ষিণ রামভদ্রপুর গ্রামের মৃত আঃ বারেক হাওলাদারের ছেলে ইব্রাহিম হাওলাদার।
তিনি জানান, তিনি উপজেলার পুটিয়া গ্রামের ইদ্রিস আলী তালুকদারের মেয়ে শামসুন্নাহার পাপরিকে বিয়ে করি। বিয়ে করে আমি বিদেশে চলে যাই। সেই সুযোগে একই বাড়ির একি বংশের লম্পট মামুন তালুকদার আমার স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক করে দৈহিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। মামুন তালুকদার বিবাহিত হওয়ায় তার স্ত্রী মিথিলা তালুকদার ফেসবুকের মাধ্যমে তার স্বামী মামুনের সাথে আমার স্ত্রী পাপরির সাথে অপকর্ম প্রকাশ করে। আমি বিদেশ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে এই কেলেঙ্কারি কথা জানতে পেরে দেশে চলে আসি।
আমার স্ত্রী বিভিন্ন সময় লক্ষ-লক্ষ টাকা নিয়েছে। সেই টাকা তার বাবা ও অবৈধ প্রেমিক মামুন তালুকদারকে দিয়েছে বলে আমার কাছে স্বীকার করেছে। আমি টাকার জন্য চাপ দিলে,মামুন তালুকদারের পরামর্শে ও সহযোগীতায় শরীয়তপুর আদালতে একটি মামলা করে। বিষয়টি চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ সবাই জানে।
অভিযুক্ত শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম (নুরু দারোগা) ছেলে মামুন তালুকদার (৩৭)।
অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, তার এই অপকর্মের কারণে এলাকার কয়েকটি প্রবাসী পরিবারের ঘর ভাঙ্গার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অভিযুক্ত মামুন তালুকদার মুক্তিযোদ্ধার সংসদ সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্য্য নির্বাহী কমিটির সদস্য।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর স্ত্রী শামছুন্নাহার পাপরি বলেন, মামুন তালুকদার হচ্ছে আমার আপন চাচাতো ভাই। আমার বড় ভাই। এ ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট। আমাদের সম্মানহানী করতে আমার স্বামি এই ধরনের অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপার মামুন তালুকদার বলেন, আমি ঢাকা থাকি। আমি বাদি ইব্রাহিমকে আজ প্রথম দেখেছি। সম্পূর্ণ ঘটনা মিথ্যা বানোয়াট। আমি এ নিয়ে মানহানিকর মামলা করবো।
প্রেক্ষিতে ৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ২ টায় ভেদরগঞ্জ নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আল নাফিস বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি জেলা প্রশাসকের কাছে আসে। জেলা প্রশাসক কাজি আবু তাহের বিষয়টি দেখার জন্য আমার কাছে দেন। আজ উভয়পক্ষ নিয়ে বসি। উভয়ের কথা শুনি। অভিযোগকারী তার অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারেনি। আমি কর্তৃপক্ষকে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেব। পাপরির স্বামি ইব্রাহিম অভিযোগ করেছে মামুন তালুকদারের বিরুদ্ধে। এখানে মেয়ে অভিযোগ করেনি। মেয়ে পাপড়ি দরবারে উপস্থিত থাকেনি।
Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন