বিয়ের ৯ মাস না যেতেই গোপালগঞ্জের যৌতুক লোভী স্বামী হত্যা করেন স্ত্রী শরীয়তপুরের ফতেমাকে।
শরীয়তপুর সদর থানার পৌরসভার মনজিলা বেগমের মেয়ে ফাতেমা (১৯) বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ভালবাসার ঘর বাধাঁতে চেয়েছিলেন। ফাতেমার স্বামী মনিরুল ইসলাম গোপালগঞ্জ জেলার উত্তর পাড়া গ্রামের সলোমন শেখ এর ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৭)। সে শরীয়তপুর লেপ তোষক এর ফেরিওয়ালার কাজ করতো। বাসাভাড়া করে থাকতেন ফাতেমাদের বাড়ির পাশে।
মনিরুল ফাতেমার মায়ের জায়গা সম্পদ দেখে সুকৌশলে ফুসলিয়ে ফাতেমার সাথে সম্পর্ক করেন। ফতেমার বাবা নেই। ৪ বোন ১ ভাইয়ের মধ্যে ফতেমা সবার ছোট। বোনদের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ফতেমা তার মায়ের সাথে থাকতো। ফতেমা মনিরুলের প্রেমের সম্পর্ক পাড়ায় জানাজানি হলে। ফাতেমার মা মঞ্জিলা বেগম মেয়ের সুখের কথা ভেবে তাদের বিয়ে দেন। বিয়ের ৯ মাস না যেতেই যৌতুকের টাকা না পেয়ে শারিরীক নির্যাতনের পর হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুঁলিয়ে রাখেন পাসন্ড স্বামী।
এমনি অভিযোগ করেন ফতেমার পরিবার। এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলাটি করেন মৃত ফাতেমা বেগমের মামা আবুল হোসেন শেখ।
মামলার বাদী আবুল হোসেন শেখ বলেন, গত ৯ মাস আগে আমার ভাগনী ফাতেমা বেগমের সাথে গোপালগঞ্জ এর কাজুলিয়া এলাকার সলেমান শেখের ছেলে মনিরুলের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর মনিরুল ফাতেমার কাছে বিভিন্ন সময় যৌতুক হিসাবে টাকা পয়সা চাইতে থাকে। আমরা ফাতেমার সুখের কথা চিন্তা করে ১ লাখ টাকা দেই। ১ লাখ টাকা দেওয়ার পর আবার টাকার জন্য চাপ দিলে আবার ১০ হাজার টাকা দেই। এবং ১০ হাজার টাকা তারা শরীয়তপুর এসে নিয়ে যায়। এর আগে টাকার জন্য তারা আমার ভাগনি ফাতেমাকে গত ২৫ মার্চ ২০২০ সকাল বেলা শারীরিক নির্যাতন করে মেরে ফেলে। আমি এই হত্যার বিচার চাই।
মৃত ফাতেমার মা মনজিলা বেগম বলেন, আহারে আমার ছোট মেয়েটাকে ওরা এভাবে মেরে ফেললো। আমি এখন কি নিয়ে থাকবো। মৃত ফাতেমার মেজ বোন জামাই বলেন, আমি ফাতেমার মৃত্যুর খবর পেয়ে যেয়ে দেখি ওরা ফাতেমাকে মেরে ঘরের দরজার সামনে ফেলে রেখেছে। আমি গেলে আমাকেও এলাকার লোকজন মারার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রাথমিক ধারণা স্বামীর অসৎ আচরনের কারণে মনোমালিন্য হওয়ার এক পর্যায়ে ফাতেমা আত্মহত্যা করে। স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্রচারনায় মামলা নিয়েছি। আসামীকে গ্রেফতার করেছি। সে এখন জেল হাজতে আছে। মামলা তদন্তধিন। পোষ্ট মোটেম রিপোর্ট পাওয়ার পর বোঝা যাবে, এটা হত্যা না, আত্মহত্যা। আরো আনুসাঙ্গিক তথ্য নিয়ে আমরা মামলাটি আদালতে প্রেরণ করবো।

Facebook Comments Box