শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ইমামউদ্দন ছৈয়াল (৪০) নামে এক মোটরবাইক চালককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখমের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার রাত ৮ টার দিকে মনোহর বাজার মোড়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৭ জনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছে আহতের পরিবার।

ইমামইদ্দন ছৈয়ালের ছোট ভাই মুক্তার হোসেন ছৈয়াল অভিযোগ করে বলেন, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম পরাশর্দি- হাজত খোলা এলাকায় ৪০ জন ব্যবসায়ী ও কৃষকের প্রায় ১০ একর জমিতে জোরপূর্বক মাছ চাষ করে আসছে প্রভাবশালী মাসুম সরদার ও মোস্তফা বেপারী। গত বছর জমির মালিকদের আপত্তির মুখে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় জমি ছেড়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরও জোরপূর্বক মাছ চাষ করছে ওই প্রভাবশালীরা।

মাছ ব্যবসায়ীরা যথা সময়ে টাকা পরিশোধ না করায় এবার জমির মালিকরা তাদের জমিতে ধান চাষের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু প্রভাবশালীরা জমি ছাড়তে না চাওয়ায় জমির মালিকরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ও ডিজিএফ আই বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয় মাছ ব্যবসায়ীরা। গত বুধবার রাত ৮ টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে মনোহর বাজার মোড়ের কাছে ইমামইদ্দন ছৈয়ালের মোটর বাইকের গতি রোধ করে তাকে হাতুড়ি, চাইনিচ কুড়াল ও লোহার দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে গুরুতর জখম করে মাসুম সরদার ও তার ছেলে আশরাফুল ইসলাম বাবু সরদার, মুজাই সরদার, আনন্দ সরদার, সোহাগ সরদার, সোহেল সরদার সহ তাদের লোকজন। পরে স্থানীয়রা ইমামইদ্দন ছৈয়ালকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় মোক্তার হোসেন ছৈয়াল বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে পালং থানায় একটি মামলা দায়ের করা করেন। ইমাম উদ্দন ছৈয়ালের বড় ভাই মনিরুজ্জামান সৈয়াল বলেন, অবৈধ মাছ ব্যাবসায়ী ও সন্ত্রাসী আংগারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ-সাধারন সম্পাদক মাসুম সরদার, তার ছেলে আশরাফুল ইসলাম বাবু সরদার, মুজাই সরদার, আনন্দ সরদার, সোহাগ সরদার, সোহেল সরদার ও তার লোকজন মিলে আমার ভাইকে হাতুড়ি, চাইনিচ কুড়াল ও লোহার দিয়ে পিটিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। আমরা সন্ত্রসীদের কাছে অসহায়। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। মাছ ব্যবসায়ী মোস্তফা বেপারী বলেন, প্রথমে আমি এই ঘেরের মালিকানায় ছিলাম, এখন আমি এটার সাথে জড়িত নেই। মারধরের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।

এ ব্যাপারে মাসুম সরদার বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। আমি বা আমার ছেলেরা কারো উপর হামলা করেনি। ইমামউদ্দন ছৈয়ালের মটর বাইকের সাথে আমার ছেলের মটর বাইকের দূর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দায়ের করেছে। আমি এর প্রতিবাদ জানাই।

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় ৭ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments Box