শনিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২২ ইং, ৫ই ভাদ্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২২শে মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
শনিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে চরম জলাবদ্ধতা

শরীয়তপুরে সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই, সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে চরম জলাবদ্ধতা

শরীয়তপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর হলেও এখানে প্রথম শ্রেণীর কোনো নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে না পৌরবাসী। খানাখন্দে ভরা পৌর এলাকার রাস্তাঘাট। সুষ্ঠ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে তলিয়ে যায় শহরের প্রধান সড়কসহ পাকা সড়ক, বসত বাড়ির আঙ্গিনা এমনকি মানুষের থাকার ঘরটিও। প্রথম শ্রেনীর এ পৌসভায় গত কয়েক’দিনের ঝড় বৃষ্টিতে পৌর শহরের নিচু এলাকায় চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পানিতে সয়লাব হয়ে তলিয়ে গেছে। ফলে জনজীবন থমকে গেছে। শ্রমজীবি মানুষের জীবন জীবিকার জন্য খুবই কষ্ট হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা নিরসন হবে।
শরীয়তপুর পৌরসভা অফিস সুত্র ও নিরালা আবাসিক এলাকার আনিস উদ্দিন বেপারী জানান, ১৯৮৫ সালে ২৪.৭৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শরীয়তপুর পৌরসভা গঠন করা হয়। আয়তনের দিক থেকে এ পৌরসভাটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পৌরসভা বলে খ্যাত। কিন্তু নাগরিক সৃুবিধা বাড়েনি। ধাপে ধাপে ১৯৯৮ সালে পৌরসভাটিকে দ্বিতীয় শ্রেণী ও ২০০৭ সালে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় উর্ত্তীন করা হয়। জেলা শহরের এই পৌরসভাটিতে বর্তমানে প্রায় লক্ষাধিক লোকের বসবাস।
এ বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠির পৌর শহরে রয়েছে মাত্র ৩ কিলোমিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা। যার ৮০ শতাংশই রক্ষনা বেক্ষণের অভাবে অকেজো ও ভরাট অবস্থায় রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যায় পৌর শহরের অধিকাংশ এলাকা। প্রভাবশালীরা প্রাচীন খালগুলো ভরাট করে পাকা আধাপাকা স্থাপনা নির্মাণ করে পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি শহরের পুরোনো শতাধিক পুকুর, জলাশয় ব্যক্তিগত উদ্যোগে বালু দিয়ে ভরাট করায় পানি নিঃস্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
কয়েক গত দিনের ঝড় বৃষ্টির কারনে শরীয়তপুর শহরের কলেজ রোড, নিরালা আবাসিক এলাকা, শান্তি নগর, কোতোয়াল বাড়ি এলাকা, পুলিশ লাইন এলাকা, কাশাভোগ, নিলকান্দী, স্বর্নঘোষ, বেপারী পাড়া, চর পালং এলাকাসহ পৌরসভার অধিকাংশ নিচু এলাকায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় সুষ্ঠ ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। একটু বৃষ্টি হলেই শহরের কোন কোন বাড়ীর উঠান পর্যন্ত পানি জমে যায়।
বিশেষ করে নিরালা আবাসিক এলাকা, শান্তি নগর আবাসিক এলাকার অবস্থা খুবই শোচনীয়। এসব এলাকায় চলাচলের রাস্তায় পানি জমে গিয়ে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে যায়। স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীরা ও পথচারীরা পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
ফলে জনজীবনে চরম দূর্ভোগ নেমে আসে। থমকে গেছে শ্রমজীবি মানুষের জীবন জীবিকা। অপরদিকে বাজারের প্রধান ড্রেনটি ময়লা ও আবর্জনা যুক্ত থাকায় সামান্য বৃষ্টির পানিতে পুরো এলাকা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। পৌরসভা মার্কেট থেকে শুরু করে উত্তর বাজার পর্যন্ত ড্রেনেজের অভাবে পানিতে ডুবে যায়। এছাড়া রয়েছে ময়লা ও কাদার বিড়ম্বনা। শরীয়তপুর পৌরসভার অন্যান্য স্থানে অবস্থা ও একই রকম।
অপর্যাপ্ত ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিস্কার ও সংস্কার না করায় বেশী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে থাকে। অপরদিকে প্রায় ২ বছর ধরে শরীয়তপুর পৌরসভার একটি অংশের ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ শুরু করলেও এখনো এক চতুর্থাংশ কাজ শেষ হয়নি। আর দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা কেটে ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। মাঝে মধ্যে সামান্য কিছু কাজ করলে তাও খুবই ধীরগতি। রাস্তা কেটে রাখার ফলে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে পৌরবাসীসহ ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা উপজেলার যাতায়াতকারী লাখ লাখ মানুষ। নিরালা আবাসিক এলাকার অধিকাংশ বাড়ীর আগিঙ্গনায়, উঠানে এবং অনেক ঘরের মধ্যে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। নালা বা ড্রেনেজ ব্যক্তি বিশেষের উদ্যোগে পরিস্কার করা হচ্ছে। দীর্ঘ দিন জমে থাকা ময়লা পানি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে মশা, মাছি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ বালাই দেখা দিয়েছে অনেকের।
চর পালং এলাকার আনোয়ার হোসেন মাঝি বলেন, কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। রাস্তায় পানিতে তলিয়ে চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে পড়ে। ভারী বৃষ্টিপাত হলে বাড়ী ঘরে পানি জমে যায়। চলাফেরা করতে আমাদের খুবই কষ্ট হয়। বছর বছর পৌরকর বৃদ্ধি করলেও নুন্যতম নাগরিক সুবিধা পাই না।
নিরালা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা কামাল সরদার বলেন, পৌরসভার পৌরকর সহ যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করলে ও আমাদের নাগরিক সুবিধা বাড়ছেনা। কয়েকদিনের ঝড় বৃষ্টির কারনে পুরো শহরের কয়েকটি এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি সরে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই। আমরা পৌরবাসি খুবই কষ্টে আছি।
শরীয়তপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র বাচ্চু বেপারী বলেন, জলাবদ্ধতা এটা পুরাতন বিষয়। আমরা পানি নিস্কাশনের জন্য একটি অংশের ড্রেনেজ নির্মানের কাজ শুরু করছি। পুরনো ড্রেনেজ সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি এ সকল কাজ শেষ হলে মানুষের দুর্ভোগ কমে যাবে। পৌরবাসী তাদের সকল সুযোগ সুবিধা পাবে।


error: Content is protected !!