শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং, ২৫শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
শনিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২২ ইং

শরীয়তপুর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাবলীগের মার্কাজ পরিচালনার দায়িত্ব জেলা জিম্মাদারকে অর্পণ

শরীয়তপুর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাবলীগের মার্কাজ পরিচালনার দায়িত্ব জেলা জিম্মাদারকে অর্পণ

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক আবু তাহের, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান ও পালং মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান (মনির)এর সু-নৈপূন্য সিদ্ধান্তে গত ২৪ মে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টায় শরীয়তপুরে তাবলীগের জিম্মাদারি পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করলেন জেলা জিম্মাদার কাজী আঃ খালেককে। শরীয়তপুর তাবলীগের মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসানকল্পে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সিদ্ধান্তের বাহিরে কেউ যদি তাবলীগের ভিতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাহলে শরীয়তপুরে তাবলীগের কাজ স্থগিত করার ভয় ও কঠিন হুঁশিয়ারী প্রদর্শন করেন পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনির। এ কাজ সুষ্ঠুভাবে চলুক এ কামনায় আলেমওলামা ও তাবলীগের সাথীদের প্রতি তার কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান এ কর্মকর্তা।
এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জেলা জিম্মাদার কাজী আঃ খালেক সাহেবকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আপাতত বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে জিম্মাদারীর দায়িত্ব দিয়ে মিলেমিশে তাবলীগের কাজ পরিচালনার জন্য বলা হয়। আমি সকল মেহনতকারী সাথীদের পরামর্শের ভিত্তিতেই এ কাজের জিম্মাদারী পরিচালনা করতে চাই। এজন্য সকলের নিকট দোয়াও কামনা করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক আবু তাহেরকে তাবলীগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, তাবলীগের বিষয়ে জিম্মাদার, আলেম ও ফায়সালদের মধ্যে মাসয়ালাগত মতপার্থক্যের কথা শুনেছি। কিন্তু শরীয়তপুর জেলার তাবলীগের মেহনতকারী এক প্রতিনিধি দল আমার নিকট আসলে আমি তাবলীগের এ দ্বন্দ্বের বিষয়ে জানতে পারি। তাদের নিকট জেনে গভীরভাবে চিন্তা করে সদর নির্বাহী কর্মকর্তা ও পালং মডেল থানা কর্মকর্তাকে তদন্তের সিদ্ধান্ত দেই। তারা তাবলীগের মতাদর্শীদের সাথে মতামতের নিরক্ষনের পর জেলা জিম্মাদার কাজী আঃ খালেককে জিম্মাদারীর দায়িত্ব অর্পণ করে পরিচালনার সিদ্ধান্ত দেয়। সকলকে নিয়ে মিলেমিশে দ্বীনের কাজ করার জন্য নির্দেশ দেয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পালং মডেল থানা কর্মকর্তাকে এ বিষয় জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয় আমাদের তাবলীগের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কথা নিরীক্ষনের জন্য আমাদের দায়িত্ব অর্পণ করেন। এ দায়িত্ব অর্পণ করলে আমরা দায়িত্ব নেই এবং তদন্ত করি। সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য উভয় মতাদর্শীদের সদর উপজেলা কার্যালয়ে আহবান করি। এবং উভয় মতাদর্শীদের মতপার্থক্যগুলো শুনে একটি সিদ্ধান্তে আসি যে, জেলা জিম্মাদার কাজী আঃ খালেককে জিম্মাদারি পরিচালনার ভার অর্পণ করে শরীয়তপুর জেলা মার্কাজেই তাবলীগের কার্যক্রম করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সবাইকে অর্থাৎ উভয় পক্ষকে আ’মল ভাগাভাগি করে পরিচালনার জন্য জেলা জিম্মাদারকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। দ্বীনের কাজে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।
মেহনতকরনেওয়ালা তাবলীগওয়ালাদের উভয় পক্ষকে এ সিদ্ধান্তের বিষয় জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, আমরা শান্তিপ্রিয় জামাত সারাবিশ্ব এটা জানে। এ সু-নৈপূন্য সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই এবং আল্লাহর নিকট শুকরিয়া জ্ঞাপন করি। কাজী আঃ খালেক সাহেব আমাদের জেলা জিম্মাদার। তিনি যেভাবে তাবলীগের কাজ পরিচালনা করবেন আমরা তা মেনে নিব এবং তার সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলবো ইনশাল্লাহ্।


error: Content is protected !!