Tuesday 25th June 2024
Tuesday 25th June 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/rudrabarta.net/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

নদী ভাঙ্গণ : নিরব দূর্যোগের কবলে শরীয়তপুরবাসী

নদী ভাঙ্গণ : নিরব দূর্যোগের কবলে শরীয়তপুরবাসী

নদী ভাঙ্গণ একটি নিরব দূর্যোগ যা প্রতি বছরই হাজার হাজার মানুষকে নিঃস্ব করে দেয়। বলা হয় আগুনে পুড়ে বা ঝড়ে বসতবাটি নষ্ট হলেও তা পূনঃনির্মাণ করে ক্ষতিপূরণ সম্ভব; কিন্তু নদী ভাঙ্গণে সব চলে যায়। ২০১৬ সাল থেকে যৌথ উদ্যোগে ব্র্যাক ও সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) কমিউনিটি পর্যায়ে নদী ভাঙ্গণের ঝুঁকির পূর্বাভাস ও সতর্কতা সংকেত প্রচারের কাজ করে যাচ্ছে। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে নদী ভাঙ্গণ কবলিত মানুষেরা যেন নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনতে পারে। কমিউনিটি পর্যায়ে নদী ভাঙ্গণের আগাম তথ্য প্রচারের জন্য লাল এবং হলুদ পতাকা ব্যবহারের মাধ্যমে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়। লাল রঙের পতাকা নির্দেশক এলাকা অতি ঝুঁিকপূর্ণ যেখানে ভাঙ্গণের সম্ভাবনা ৭০ শতাংশ এবং হলুদ রঙের পতাকা নির্দেশক এলাকা ঝুঁিকপূর্ণ, যেখানে ভাঙ্গণের আশংকা ৫০ শতাংশ। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে এই তথ্য প্রচার করা হচ্ছে যা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিজেদের বসতি সরিয়ে নিতে সহায়তা করছে। এবং সেই তথ্য যেন প্রতিবন্ধি মানুষের কাছেও পৌঁছাতে পারে সেই জন্য ব্র্যাক কাজ করে যাচ্ছে। ভেদরগঞ্জ উপজেলার টুকু বেপারি কান্দি গ্রামের শেফালির মন্তব্য “একটা বাড়ি করে ৫ বছরের বেশি থাকতে পারিনা, সব টাকা নদীতে চলে যায়”।
সিইজিআইএস এর ২০১৮ সালের নদী ভাঙ্গণের ঝুঁকির পূর্বাভাস তথ্য অনুযায়ী দেশের ৩টি বড় নদীর মোট ১১ টি জেলার ২২ টি স্থান ঝুঁিকপূর্ণ। এর মধ্যে ৬টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ব্র্যাক এবং সিইজিআইএস প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান আছে। এরই মধ্যে শরীয়তপূর জেলার, নড়িয়া-জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি থেকে কেদারপুর পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত প্রায় ৮.৭ কিলোমিটার এলাকার অধিকাংশ ইতোমধ্যেই নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গিয়েছে। এবং ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ভেদরগঞ্জ উপজেলার বেপারি কান্দি থেকে চেয়ারম্যান স্টেশন বাজার পর্যন্ত প্রায় ২.৭ কিলোমিটার এলাকা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। নদী ভাঙণের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা এবং মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়ার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। যাতে করে প্রাকৃতিক দূর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস পায় ও মানুষ প্রকৃতির সামনে অপেক্ষাকৃত কম অসহায় বোধ করে। নদী ভাঙ্গণের কারনে যারা স্থানান্তরিত হচ্ছে তাদেরকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া জরুরি। নদী ভাঙ্গণ কবলিত পরিবারগুলো সাধারণত তাদের সমাজ ও সংস্কৃতি ত্যাগ না করার এবং জীবন যাত্রার ধরণ টিকিয়ে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। এসব ভাঙ্গণ কবলিত এলাকা ও ভাসমান মানুষগুলোর এই বাস্তবতার সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য আরো সুনির্দিষ্ট সাংগাঠনিক পরিকল্পনা ও সেবা প্রয়োজন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহ হল- লাল পতাকা নির্দেশক এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়া, হলুদ পতাকা নির্দেশক এলাকায় সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে কোন স্থায়ী স্থাপনা বা পাকাভবন নির্মাণ করা থেকে বিরত থাকা, স্থানান্তরিত হয়ে যারা অন্য স্থানে চলে গিয়েছে তাদের নিকটস্থ ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভায় তথ্য হাল নাগাদ করার উদ্যোগ নেয়া, নদী ভাঙ্গণ কবলিত মানুষদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় নিয়ে আসার জন্য উদ্যোগ নেয়া, ভোটার আইডি কার্ড হাল নাগাদ করার ব্যবস্থা নেয়া এবং নদী ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য বিভিন্ন ধরনের বীমা সুবিধা নিশ্চিত করা।
৬ জুন ২০১৮ নড়িয়া উপজেলা এবং মোক্তারের চর ইউনিয়ন পর্যায়ে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে নদী ভাঙ্গণ কবলিত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অবহিতকরণ কর্মশালা পরিচালিত হয়। সভার আলোচনায় আলোকপাত করা হয় নদী ভাঙ্গণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা, নদী ভাঙ্গণের আগাম তথ্য প্রচারণার কাজ মার্চ-এপ্রিল মাসের মধ্যে শেষ করা, এবং অতি ঝুকিপূর্ন স্থাপনাগুলোর তালিকা তৈরি করা। নদী ভাঙ্গনের গতি-প্রকৃতি বিবেচনায় এ বছর স্থাপনাগুলোর মধ্যে নড়িয়ার সুরেশ্বর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, খাদ্য গুদাম, নড়িয়া ব্রীজ, নড়িয়া-জাজিরা সংযোগ সড়ক ভাঙ্গণের জন্য অতি ঝুকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে।
নড়িয়া উপজেলা পর্যায়ের উক্ত অবহিতকরণ কর্মশালায় সভাপতিত¦ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন। এছাড়া এই সভায় উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা আক্তার, ব্র্যাকের পক্ষে মনিরা পারভীন, মাহমুদ হোসেন, তাসনিম জামান, শরীয়তপুর ব্র্যাক জেলা প্রতিনিধি, ব্র্যাক উপজেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা টিমের সদস্যবৃন্দ। সিইজিআইএস এর পক্ষে এটিএম শামসুল আলম, শহিদুর রহমান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিবৃন্দ।