শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার নির্বাচন অফিসে ঘুষ বাণিজ্য জমজমাট । জাতীয় পরিচয় পত্রের ভুল সংশোধের জন্য ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রকাশ্যেই নেয়া হচ্ছে ঘুষ। সংশোধনের পরিমান অনুযায়ী হয় দরকষাকষি। নেয়া হয় ২ হাজার থেকে শুরু করে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ভুলের পরিমান যত বেশী ঘুষের পরিমান ততই বেশী শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে। আর যদি কোন সেবাপ্রার্থী ঘুষ দিতে ব্যর্থ কিংবা অস্বীকৃতি জানায় তাকেই ঘুরতে হয় দিনের পর দিন মাসের পর মাস। তবে প্রতিটি ঘুষ লেনদেনই হয় স্বয়ং নির্বাচন কর্মকর্তা মুহম্মদ আলিমুদ্দিন এর নির্দেশে। অফিস ঘিরে রয়েছে তার বিশাল এক দালাল চক্র। এমন অভিযোগ ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে আসা শত শত ভুক্তভোগী নাগরিকের। তবে সম্প্রতি নির্বাচন অফিসের অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে লিখিতভাবে অবগত করেছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এরই মধ্যে ভেদরগঞ্জ নির্বাচন অফিসে ঘুষ নেয়ার একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। নির্বাচন অফিসে কর্মরত জাবেদ নামের এক ব্যাক্তি সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহন করে পকেটে ঢুকাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাবেদ নামে ঐ ব্যাক্তি উপজেলা নির্বাচন অফিসে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত আছেন। ঘুষ নেয়া বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি স্বীকারও করেন জাবেদ নামের ঐ কর্মচারী বলেন, “আমাদের নির্বাচন কর্মকর্তা নিজেই জড়িত অফিসের এসব অপকর্মে। প্রতি এলাকায় তার দালাল রয়েছে। আপনারা নিউজ টিউজ কইরেন না, আমি তার সাথে আলাপ করতেছি, আপনাদের চাহিদা কি বলেন”!
সরেজমিন ঘুরে দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাতীয় পরিচয় পত্র সংশোধনের ক্যাটাগরি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উপজেলা নির্বাচন অফিস, জেলা নির্বাচন অফিস, বিভাগীয় নির্বাচন অফিস প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ের দ্বারাস্থ হতে হয় সেবা প্রত্যাশীকে। কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তা মুহম্মদ আলিমুদ্দিন যোগদানের পরেই ভেদরগঞ্জ নির্বাচন অফিসে শুরু হয় নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য। ভোটার হস্তান্তর, এনআইডির নাম সংশোধন ও বয়স সংশোধনে ঘুষের জন্য সাধারণ নাগরিকদের করা হয় ব্যাপক হয়রানি। গ্রাম পুলিশ, কম্পিউটার অপারেটর, নামধারী সংবাদকর্মী সহ বিভিন্ন শ্রেনীর লোকজনের দালালি শুরু হয় গুরুত্বপূর্ণ এ অফিসটিকে কেন্দ্র করে।
এ অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য আসা আক্কাস পেদা বলেন, আমার নামের বানান সংশোধনের জন্য নির্বাচন অফিসের লোকজন আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে আমার অনেক বাকবিতন্ডা হয়। পরে ২ হাজার টাকা দিয়ে তা সংশোধন করেছি। হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমার চাচাতো ভাইয়ের নামটা সংশোধন জরুরী হওয়ায় নির্বাচন অফিসকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে কাজটা করাতে বাধ্য হয়েছে সে। অফিসের কম্পিউটার অপারেটর জাবেদই অপকর্ম বেশী করে। অনিক মিয়া বলেন, আমার এক ডিভোর্সী আত্মীয় স্বামীর নাম পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন অফিস আমার কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে ৪ হাজার টাকায় কাজটি করাই। খলিল মিয়া, মিঠু বলেন, নির্বাচন অফিসে নিজেরা সরাসরি না পারলে অফিসের লোকজন দালালদের মাধ্যমে টাকা দাবি করে। অনিয়ম, ঘুষ, মানুষের ভোগান্তি করা এ অফিসের নিয়মিত ঘটনা। নিজ অফিসের নানামূখী অপকর্ম, অনিয়ম আর ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কর্মকর্তা মুহম্মদ আলিমুদ্দিন বক্তব্য না দিয়েই অফিস ত্যাগ করেন। পরে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয় গুলো তদন্ত করার আশ্বাস দেন তিনি। এমনকি এসব বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য টাকার প্রস্তাব ও বিভিন্ন ব্যাক্তির মাধ্যমে তদবির শুরু করেন এ কর্মকর্তা।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এধরণের অভিযোগ নিয়মিত আমার কাছে আসার পর আমি বার বার নির্বাচন অফিসার ও কর্মচারীদের সতর্ক করেছি। কিন্তু তারা সংশোধন না হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে আমি সংশ্লিষ্ট অফিসকে লিখতভাবে অবগত করেছি। আশা করি দ্রুত তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন। এ বিষয়ে জানতে শরীয়তপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ জাহিদ হাসানের ফোনে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।
#

মন্তব্য করুন