রবিবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২২ ইং, ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৬ই মুহাররম, ১৪৪৪ হিজরী
রবিবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২২ ইং

শরীয়তপুরে আ’লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

শরীয়তপুরে আ’লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ বিনির্মাণের পথে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ উপমহাদেশের ঐতিহ্যের রাজনৈতিক সংগঠন। সংগ্রাম, গৌরব ও সাফলের ৬৯বছর।

শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়। জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে গতকাল ২৩ জুন শনিবার প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে কেক কাটা ও দোয়ার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য আলহাজ্জ্ব মো: আব্দুর রশিদ খান। সভায় জেলা আওয়ামীলীগের (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাড. মির্জা মো: হজরত আলী (পি.পি)। উপস্থাপনায় ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগ এর দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মাহাবুবুর রহমান ফেরদাউস খান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ কামুরুজ্জামান উজ্জল, আলহাজ মো: সুলতান হোসেন মুন্সী, জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাস্টার আব্দুল সামাদ তালুকদার, জেলা ছাত্রলীগ এর আহ্বায়ক মো: মহসিন মাদবর, শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ লিটন সরদার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট শরীয়তপুর জেলা সভাপতি মোঃ সেলিম ঢালী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাজীব আহমেদ মাদবর, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ এর সম্পাদিকা পারভীন জাগরন, জেলা পরিষদ সদস্য আসমা আক্তার, জেলা ছাত্রলীগ এর সাবেক যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মো: জসিম মাদবর, জেলা যুবলীগ নেতা সুভাষ চন্দ্র দাস, সদর উপজেলা ছাত্রলীগ এর সহ-সভাপতি সবুজ দত্ত, তুলাসার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, নারী নেত্রী নাজমা আক্তার রোজীসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ এর অন্যান্য সহযোগী নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, ১৯৫২ সালের ‘‘মায়ের ভাষা বাংলা” প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হয়েছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট পাকিস্তানের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছিল। ’৬২ সালে গণবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন, ’৬৬ সালের ৬-দফার আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ সকল আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

’৭০-এর নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করার পরও পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি করলে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দেন। আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এদেশের জনগণকে সাথে নিয়ে পাকিস্তানিদের এদেশ থেকে তাড়িয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে উপহার দেয়।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন স্বাধীনতা উত্তর সাড়ে তিন বছর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব বাংলাদেশ যখন অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছিল তখনই কুচক্রী মহল, স্বাধীনতা বিরোধীচক্র ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। জেলখানায় জাতীয় চারনেতাকে হত্যার মাধ্যমে এই সংগঠনটিকে নিশ্চিহ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নবউদ্যামে সংগঠিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬-এর সরকার গঠন করে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। ২০০৮ সালে পুনরায় সরকার গঠন করে ‘রূপকল্প ২০২১’-এর আলোকে মধ্যম আয়ের সুখী-সমৃদ্ধশালী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখান এবং ২০১৪ সালে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা ‘রূপকল্প ২০৪১’-এর আলোকে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের অর্জনের ধারাবাহিকতায় বাংলার জনগণ বিশ্বাস করে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। সে জন্য ২৩ জুন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার দিবসটি বাঙালি জাতির জীবনে অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। সারা বাংলার জনগণকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতি বছরের ন্যায় এই বছরও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।


error: Content is protected !!