নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সংঘটিত সকল ধরনের নির্যাতন নির্মূল করার দৃঢ় প্রত্যয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিবছর ১৬ দিনব্যাপী নারী নির্যাতন নির্মূলকরণে প্রচারাভিযান পক্ষ পরিচালিত হয়। এই প্রচারাভিযান ২৫ নভেম্বর আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস দিয়ে সূচিত হয় এবং ১০ই ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ১৯৪৮ সাল থেকে ১০ ডিসেম্বর দিবসটি উদযাপন করা হয়। এছাড়াও সার্বজনীন মানবাধিকার সংক্রান্ত ঘোষণাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ তারিখকে নির্ধারণ করা হয়। এসডিএস প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর) ১৬ দিনের ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কিশোর-কিশোরীদের বাইসাইকেল র‌্যালী, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, লিফলেট ক্যাম্পেইন, কিশোরীদের ক্রিকেট ম্যাচ, আলোচনা সভা, স্টাফদের জেন্ডার ও সেফগার্ডিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ আয়োজন ইত্যাদি।

এরই ধারাবাহিকতায় এসডিএস ১৬ দিনের কার্যক্রমের সমাপনী দিবস এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উদযাপন উপলক্ষে আগামী ১০ ডিসেম্বর সকাল ১০টা জেলা প্রশাসন কার্যালয় প্রাঙ্গনে একটি মানববন্ধন আয়োজন করছে। এ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য পেশ করেন এ্যাড. রাশিদা মির্জা, জজকোর্ট শরীয়তপুর, বক্তব্য রাখেন এসডিএস এর পরিচালক বিএম কামরুল হাসান ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এসডিএস এর নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম। সভাপতির বক্তব্যে রাবেয়া বেগম বলেন আমরা এসডিএস প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি আমরা সকল কার্যক্রমকে জেন্ডারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করে এবং জেন্ডারকে মূলধারায় আনয়নে কাজ করছি। এ লক্ষ্যে এসডিএস তার সকল উন্নয়ন প্রকল্পে জেন্ডার ইস্যুকে সম্পৃক্ত করেছে এবং কর্মকর্তা ও কর্মীদের জেন্ডার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করে সংবেদনশীল করেছে।

বিশেষ করে, যুব ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেনতা বৃদ্ধিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জেন্ডার প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি পর্যায়ে উঠান বৈঠক, ফুটবল ও ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণ, কারাতে প্রশিক্ষণ, পটগান, জারিগান ও ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করা ইত্যাদি। সেইসাথে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে কিশোরী ও যুব নারীদের এসডিএস কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করার পাশাপাশি দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন কার্যালয় প্রাঙ্গনে এসডিএস এর মানববন্ধন।

প্রশিক্ষিত যুব নারীদের চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে আসছে। এসডিএস বিশ্বাস করে, সুষম ও টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীর সমঅংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, বাড়াতে হবে জেন্ডার সংবেদনশীল বিনিয়োগ।নারীর প্রতি সহিংসতা এটা মানবাধিকার লংঘন জনিত ঘটনা। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। নারী ও মেয়েশিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে ব্যক্তি, সমাজ এবং বিশেষত রাষ্ট্রীয়পর্যায়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও জীবন ও জীবিকার উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্থাপন, বৈষম্যমূলক পারিবারিক আইন পরিবর্তন, ছেলে ও মেয়ে সন্তানের মধ্যে পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, নাগরিক স্বাধীনতার উপর অধিকার স্থাপন, বস্তুগত ও অবস্তুগত সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সমঅংশীদারিত্ব আনয়নে সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়পর্যায় থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Facebook Comments Box