শরীয়তপুর জেলা শহরের চরপালং এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে আয়েশা আক্তার (৬) নামের একটি শিশু অপহৃত হয়েছে।
২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এক তরুণ শিশুটিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান।
আয়েশা চরপালং এলাকার দারুল উলুম ফোরকানিয়া কওমি মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষার্থী এবং তার বাবা-মা জাকির তালুকদার ও ফারজানা আক্তারের মেয়ে।
মাদ্রাসা ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ৯টার দিকে আয়েশা বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় আসে। সকাল ১০:৩০ মিনিটের দিকে নাশতার বিরতির সময় সে মাঠে অন্য শিশুদের সাথে খেলছিল। বেলা সোয়া ১১টার দিকে একটি তরুণ মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় মাদ্রাসার মাঠে আসে এবং আয়েশার নাম ধরে তাকে খুঁজতে থাকে। এক শিশু আয়েশাকে দেখিয়ে দিলে তরুণটি তাকে হাতে ধরে মাদ্রাসার প্রধান সড়ক দিয়ে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের দিকে নিয়ে যায় এবং সেখানে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে চলে যায়।
ঘটনাটি তখনই মাদ্রাসার শিক্ষকদের জানানো হয় এবং তারা আয়েশার মাকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে তার পরিবার বিভিন্ন স্থানে খোঁজ-খবর শুরু করে এবং পুলিশকে জানানো হয়।
এই অপহরণের দৃশ্য মাদ্রাসা ও পাশের একটি ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১১:১৫ মিনিটের দিকে কালো জ্যাকেট, জিনস এবং মুখে মাস্ক পরা এক তরুণ আয়েশাকে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে এবং পরে অটোরিকশায় তুলে নেন। ঘটনার পর তার সহপাঠী জামিলা বিষয়টি মাদ্রাসার শিক্ষককে জানায়।
মঙ্গলবার দুপুরে আয়েশার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা ও দাদি বিলাপ করছেন। বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা মেয়েটির খোঁজে বিভিন্ন স্থানে গেছেন। ফারজানা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সকালে মেয়ে মাদ্রাসা যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত ফিরে আসেনি। একজন শিক্ষক ফোন করে জানালেন যে, অটোরিকশায় একজন যুবক আমার মেয়েকে নিয়ে গেছে। আমাদের কোনো শত্রুতা নেই, কী উদ্দেশ্যে আমার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে তা বুঝতে পারছি না।”
আয়েশার বাবা, মৎস্য খামার ও পরিবহন ব্যবসায়ী জাকির তালুকদার দৈনিক রুদ্রবার্তাকে জানান, বিকেল ৫টার দিকে শিবচরের ছিলারচর এলাকায় একটি শিশুকে পাওয়ার খবর আসে। তিনি মেয়ের খোঁজে সেখানে যাচ্ছেন।
পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হেলাল উদ্দিন দৈনিক রুদ্রবার্তাকে জানান, অপহরণের খবর পাওয়ার পর শহরের সব সড়কে তল্লাশি শুরু করা হয়েছে এবং আশপাশের থানাগুলোকেও জানানো হয়েছে। পুলিশের দল শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য কাজ করছে।

মন্তব্য করুন