“উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশ” শ্লোগানকে নিয়ে শরীয়তপুরে তিনদিন ব্যাপী উন্নয়ন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের মাঠে এ মেলা উদ্বোধন করা হয়। পরে জেলার উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যাডভোকেট, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহেরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কর্ণেল (অব:) শওকত আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএম মোজাম্মেল হক, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, বাংলাদেশ সরকারের সচিব, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমীর মহাপরিচালক মো. কামাল উদ্দিন তালুকদার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার, শরীয়তপুর জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, সিভিল সার্জন ডা. মো. খলিলুর রহমান, শরীয়তপর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল হাসেম তপাদার, শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল প্রমূখ।
আলোচনা সভায় শরীয়তপুর জেলার তিনটি আসনের উন্নয়ন দিকগুলো তুলে ধরেন এমপিরা। এ ছাড়া বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের বিষয় নিয়ে বিশেষ আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কর্ণেল (অব:) শওকত আলী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আজ অদ্যবদি আমরা অনেক উন্নতি লাভ করেছি। এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যেন আমরা অব্যাহত রাখতে পারি সে লক্ষেই কাজ করে যেতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বি. এম. মোজাম্মেল হক বলেন, আমাদের বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেলে উন্নীত হয়েছে। আর এ উন্নয়নের মডেলে উন্নীত হতে আওয়ামীলীগ সরকার বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু-১ নিক্ষেপণ, নিজস্ব অর্থায়নে শেখ হাসিনা পদ্মাসেতু নির্মাণ, ডিজিটাল বাংলাদেশের অঙ্গীকার পূরণ, শিক্ষা ব্যবস্থাকে মাল্টিমিডিয়ায় রূপদান, খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতির জন্য বড় বড় প্রকল্পের কাজ চলমান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় তার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে ও সোনার বাংলাদেশ গড়তে যা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আমাদের দিচ্ছেন তাই করে দেখাচ্ছেন।
বিশেষ অতিথি নাহিম রাজ্জাক বলেন, শরীয়তপুর আধুনিক করতে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তব অগ্রসৈনিক প্রয়াত নেতা আব্দুর রাজ্জাক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপের উন্নয়নকে স্বার্থক করতে কাজ করে গিয়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের সাথী হয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এখন আর পিছিয়ে নেই।
বাংলাদেশ সরকারের সচিব, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমীর মহাপরিচালক মো. কামাল উদ্দিন তালুকদার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জন্য কি করেছেন তা আপনারা বাস্তবে দেখতে পাচ্ছেন। আমরা আমাদের প্রথম জীবনে যা চিন্তা করতে পারিনি তা এখন বাস্তবে দেখছি। আমাদের এখন আর পায়ে হেটে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয় না। ইতিমধ্যে ৮৩৪৩ কোটি উন্নয়নের কাজ হয়েছে। পদ্মাসেতুসহ বড় বড় উন্নয়ন কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জন্য ২০২১ ও ২০৪১ ভিশন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা তার অংশীদার হিসেবে সহযোগিতা করছি। তার বাস্তবায়ন হলে আমরা অচিরেই মধ্যম আয়ের দেশ হতে পারবো।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়, জেলা পুলিশ বিভাগ, জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, জেলা মৎস্য অফিস, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা অফিস, জেলা আত্মকর্ম হস্তশিল্প ঘর, জেলা ডাক বিভাগ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, জেলা বিআরটিএ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী, জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতর, জেলা সড়ক বিভাগ, জেলা মহিলা সংস্থা, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা পরিষদ, শরীয়তপুর পৌরসভা, বেসরকারি সংস্থা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ শতাধিক স্টল বসেছে এ উন্নয়ন মেলায়।
মেলায় শোভা পাচ্ছে বর্ণিল আলোকসজ্জা। দর্শকদের দৃষ্টিনন্দন করতে মেলার মাঝামাঝি স্থানে রঙ্গিণ পানির কৃত্রিম ফুয়ারায় আলোকসম্পাত ঘটিয়ে বর্ণিল এক দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে। রঙ্গিন বেলুন আর সাজ সজ্জার মাধ্যমে প্রতিটি স্টল সাজানো হয়েছে। এসব স্টলে প্রদর্শন করা হচ্ছে সরকারের ১০ বছরের উন্নয়ন-অগ্রগতির কর্মকান্ডের নানা তথ্য ও প্রামাণ্যচিত্র। এসব তথ্য ও প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম ১০টি উদ্যোগ একটি বাড়ি একটি খামার, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, বিনিয়োগ বিকাশ, আশ্রয়ণ প্রকল্প, কমিউনিটি ক্লিনিক ও শিশু বিকাশ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং পরিবেশ সুরক্ষামুলক নানা কর্মসূচি তুলে ধরা হচ্ছে। বিতরণ করা হচ্ছে উন্নয়ন তথ্য সম্বলিত লিফলেট। মেলার আইসিটি স্টলে প্রদর্শন করা হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার পদ্ধতি ব্যবহার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত স্টলে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের নানা উদ্যোগ তুলে ধরা হচ্ছে।
এ ছাড়া সরকারের বিদ্যুৎখাতে সাফল্যের চিত্র তুলে ধরছে পিডিবি, পল্লী বিদ্যুৎসহ বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো। মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং সহায়তা কর্মসূচির সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগ তুলে ধরা হচ্ছে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের স্টলে। দেশের অগ্রগতি-উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকান্ড তুলে ধরা হচ্ছে মেলা স্টলে।
উদ্বোধনী দিনে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগ’ শীর্ষক উন্নয়ন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য করুন