শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার পদ্মা শাখা নদী ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ড্রেজারে সয়লাব হয়েছে। এসব ড্রেজার দিয়ে দিনরাত সমানতালে নদী ও কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের কবলে পড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। এতে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে একাধিক চক্র। দীর্ঘদিন ধরে এ অপকর্মের প্রতিবাদ করলেও বালু উত্তোলন ঠেকানো যাচ্ছে না। তাই অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর অভিযান দাবি করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার সখিপুর, তারাবুনিয়া, আরশিনগর, চরসেনসাস, রামভদ্রপুর, চরভাগা সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আরশীনগর ইউনিয়নের চর ফিলিজ বাজারের পাশে পদ্মা শাখা নদীতে বালুমহালের ইজারা না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় অসাধু সদস্যদের মাসোয়ারা দিয়ে রাতের আঁধারে বালু উত্তোলন করছে কয়েকটি চক্র। এতে ভাঙনের শঙ্কায় পড়েছে স্থানীয় কয়েকটি গ্রাম। একই ইউনিয়নের রূপনগর মাঈনুদ্দীন ঢালীর বাড়ীর পাশে কৃষি জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। চরসেনসাস ইউনিয়নের ফেরিঘাট এলাকায় সরকারি বালু ইজারা ছাড়াই ড্রেজারের মাধ্যমে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। এছাড়াও আকন কান্দি কামাল আকনের খামারে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
রূপনগর এলাকার বাসিন্দা আলি সরদার বলেন, ক্ষমতায় যে যখন থাকে তারাই দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য চালায়। বিগত দিনে আরশিনগর ইউনিয়নে ড্রেজার নিয়ন্ত্রণ করতেন একটি চক্র। গত ৫ আগস্টের পর সেই ড্রেজার নিয়ন্ত্রণ করে আরেকটি চক্র। দীর্ঘদিন ধরে মাঈনুদ্দীন ঢালীর বাড়ীর পাশে কৃষি জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম কাজ হয় নি। অবৈধ বালু উত্তোলন চক্রকে রুখে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত এগিয়ে আসতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা চান শরীফ মাঝী বলেন, আমাদের চর ফিলিজ বাজারের পাশে নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলায় তীর ভেঙে জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় এসব ড্রেজার চলে। আর মধ্যরাতে প্রতিবাদ করতে গেলে প্রাণও হারাতে হতে পারে। তার চেয়ে ভালো নদী ভাঙনের অপেক্ষায় থাকা, আর ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া। প্রশাসন সবকিছুই জানে কোথায় কি হয়। অভিযোগ দিয়েই লাভ কি? যদি পারেন এই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করেন।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কে. এম. রাফসান রাব্বি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নদীতে ড্রেজিং মেশিন দেখলেই প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।




মন্তব্য করুন