বৃহস্পতিবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩রা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ ইং

শরীয়তপুর শহরে ৪ দিনব্যাপী আয়কর মেলা শুরু

শরীয়তপুর শহরে ৪ দিনব্যাপী আয়কর মেলা শুরু

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শরীতপুরে ৪ দিনব্যাপী আয়কর মেলা-২০১৮ এর উদ্ভোধন করা হয়েছে। গতকাল ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার উপকর কমিশনারের কার্যালয়, সার্কেল-১৪৯ (শরীয়তপুর), কর অঞ্চল-৭, ঢাকা আয়োজনে শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৫ নভেম্বও থেকে মেলা চলবে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত। মেলা উদযাপন উপলক্ষ্যে শরীয়তপুরে ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে।
‘‘করদাতাদের অধিকতর করসেবা প্রদানের লক্ষ্যে আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত ৪ দিন ব্যাপী বিভিন্ন সময়ে জেলার ৩টি স্থানে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। গতবছর আয়কর মেলায় প্রায় সহ¯্রাধিক করদাতাকে কর সেবা প্রদান করা হয়েছিল। তবে এ বছর আরও অধিক সংখ্যক করদাতাকে সেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে কর বিভাগ এ মেলার আয়োজন করেছে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত কর কমিশনার, কর অঞ্চল-৭, ঢাকা মোঃ সাইফুল হকের সভাপতিত্বে ও আয়কর অফিসের ইউডি রেদোয়ান মল্লিকের উপস্থাপনায় মেলার উদ্বোধন করেন শরীয়তপুরের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন। শরীয়তপুরের সুযোগ্য সিভিল সার্জন ডাঃ খলিলুর রহমান ও শরীয়তপুরের উপ সহকারী কর কমিশনার জহিরুল ইসলাম প্রমূখ।
প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, সাধারণ করদাতাদের মোট আয় দুই লাখ টাকার নিচে হলে কর প্রদান করতে হয় না। মহিলা ও ৬৫ বছেরর বেশি বয়সীদের কর মোট আয়ের সীমা ৩ লাখ টাকা এবং যেহেতু মোট আয়ের কর মোট আয়ের সীমা সোয়া চার লাখ টাকা। এর উপরে গড়ে আয়কর দিতে হবে। সাধারণ করদাতাদের আড়াই লাখ টাকার উপরে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের আয়কর ১০ শতাংশ। পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর কর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর কর হার ২০ শতাংশ, পরবর্তী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর ২০ শতাংশ এবং এর পরবর্তী যেকোন পিরমাণ আয়ের ৩০ শতাংশ কর দিতে হবে। অর্থাৎ বছরে কারো মোট আয় সাড়ে ৪৭ লাখ টাকার বেশি হলে ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। দেশ উন্নয়নে মেগা প্রকল্প চলছে, কোটি কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েই মেগা প্রকল্প চালু করেছেন। আয়ের সিমা অতিক্রম হলে আয়কর দিতে হবে সকলকে। উপবৃত্তির কারনে ঝরে পড়া ও পথ শিশুর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টুনি খুবই মজবুত, কাবিখা কাবিটা সহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টুনির কাজ সচল। আয়কর থেকে এসব উন্নয়ন প্রকল্প চলু করা হয়েছে। পদ্মা সেতু ও পায়রা বন্দর সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, দেশ আজ উন্নত বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে। ডিজিটাল দেশ হয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ২০২১ সালে উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে। এসব উন্নয় আশা করতে হলে কর ফাকি না দিয়ে নিয়ম মাফিক কর প্রদান কারতে হবে। সঠিকভাবে আয়কর দিলে দেশে কোন অভাব থাকবে না। দেশের উন্নয়নে ২য় স্বপ্ন পুরণ করছেন জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কণ্যা বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিশেষ অতিথি জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, যারা কর দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করেও কর প্রদান করলেন না, তারা সারকারকে দেশকে ঠকালেন। মানে রখবেন দেশ উন্নয়নে সকলেই দাবিদার। দেশ উন্নয়নের সাথে সকলকেই কর দেয়া উচিত। আমার যারা সরকারী কর্মকর্তা আমরাও কর দিয়ে থাকি। যে দেশে সঠিক ভাবে কর প্রদান হয়ে থাকে সেই দেশ বেশ উন্নত হয়েছে পাশাপশি জনগনের নিকট সেবার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আমরা সবাই কর দেব দেশ উন্নয়নে ভূমিকা থাকবো।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিলো, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বি এম মোজাম্মেল হক। উপস্থিত না থাকার কারনে তার লেখা আয়কর মেলা উপলক্ষে বাণী পৌছানো হয়। বাণীটি আলোচানা সভায় পাঠ করে শোনান রেদোয়ান মল্লিক।


error: Content is protected !!